স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৭ নভেম্বর।। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাকে পরাজিত করতে যে সমস্ত ভারতীয় বীর সেনানি বলিদান দিয়েছেন তাদের স্মৃতিতে রাজধানীর পোষ্ট অফিস চৌমুহনীতে স্মৃতি সৌধ তৈরি করা হয়। সেই স্মৃতিতে যুদ্ধে জেতা ট্যাঙ্ক ও আর্টিনারী গান রাখা হয়। প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারী, ১৫ আগস্ট ও বিজয় দিবসে সেই স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে স্মৃতি সৌধের এলাকা বিশাল। যে কারণে ট্রাফিকের সমস্যা হচ্ছে। সাধারন মানুষের সমস্যা হচ্ছে।
সেই মোতাবেক আর্মির কাছে থেকে আবেদন জানানো হয় এই স্মৃতি সৌধ ও তাতে থাকা যুদ্ধের স্মৃতি লিচু বাগান স্থিত এলবার্ট এক্কা পার্কে স্থানান্তর করার জন্য। এই দাবি ছিল দীর্ঘ দিনের। ২০১৬ সালের রাজ্য সৈনিক বোর্ডের বৈঠকে এই দাবি উঠেছিল। শহরে একটি স্মৃতি সৌধ থাকলে সুবিধা হয়। বহু স্মৃতি সৌধ থাকলে সমস্যা হয়। পোষ্ট অফিস চৌমুহনী স্থিত স্মৃতি সৌধ মেরামত করতে সমস্যা হচ্ছিল। রাতের অন্ধাকারে কিছু লোক ঢুকে গিয়ে তার পরিবেশ নষ্ট করে।
এর জন্য ২০১৯ সালের ৩১ জুন একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে যুগ্ম ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এই স্মৃতি সৌধ এলবার্ট এক্কা পার্কে স্থানান্তর করার। এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সহ আর্মির আধিকারিকেরা ছিলেন। এলবার্ট এক্কা পার্কে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বড় আকারে স্মৃতি সৌধ বানানো যাবে। তাতে যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত সমস্ত স্মৃতি থাকবে। একই সঙ্গে এই পার্কে যারা আসবেন তারা এই ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।
মঙ্গলবার কুঞ্জবন স্থিত ডাইরেক্টোরেট অফ সৈনিক ওয়েলফেয়ার বোর্ডের কার্যালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় এই কথা জানান অধিকর্তা প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার জয় প্রকাশ তেওয়ারী। এই রাস্তা দিয়ে জাওয়ার সময় বহু মানুষ এই স্মৃতি সৌধ দেখতে পারবে। অনেক মানুষ গাড়ি পার্কিং করে পার্কে প্রবেশ করে জানতে পারবে। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখে আর্মির দাবি মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান রাজ্য সরকার সেনানীদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল।
লেম্বুছড়ায় বীর চক্র প্রাপ্ত আর কে দেববর্মার মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। সোশ্যাল পেনশন বারিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলে জানান তিনি। ২ শতাংশ সংরক্ষণ কড়া হয়েছে চাকুরীর ক্ষেত্রে। এই নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি না করতে আবেদন জানান ডাইরেক্টোরেট অফ সৈনিক ওয়েলফেয়ার বোর্ডের অধিকর্তা প্রাক্তন ব্রিগেডিয়ার জয় প্রকাশ তেওয়ারী।