অনলাইন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর।। কোভিডমুক্তির বেশ অনেকটা সময়ে পর দুর্বল শরীর কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠছে। আর এই ফাঁকেই মনের কোণে থাবা বসাচ্ছে ভয়ংকর অসুখ। করোনাভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে সুস্থ হওয়ার তিনমাসের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ জটিল মানসিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করছেন। মনোবিদদের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এল এমনই উদ্বেগজনক তথ্য। ফলে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি খানিকটা এরকম – করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েও স্বস্তি নেই।
ফের শুরু হচ্ছে নতুন যুদ্ধ, নিজের মনের সঙ্গে। মারণ ভাইরাস শরীরে ঢুকলে তা বধ করে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে সবমিলিয়ে অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগবে। তারপর স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করলেন নিশ্চিন্ত হয়ে। কিন্তু আপনার অগোচরেই করোনা পরবর্তী সময়ে মনে ঢুকে যাচ্ছে একরাশ ভয়, উদ্বেগ। সমীক্ষা চালিয়ে মনোবিদরা জানাচ্ছেন, উদ্বেগ, হতাশা আর নিদ্রাহীনতা – এই তিন অসুখেই বেশি ভুগছেন করোনামুক্ত মানুষজন। তিন মাসের মধ্যেই মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে যাচ্ছে অনেকটা। প্রতি ৫ জনের মধ্যে অন্তত ১ জনই এর শিকার।
সময়মতো চিকিৎসা না করালে পরবর্তীতে ডিমেনশিয়া অর্থাৎ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাই হারিয়ে যেতে পারে, যে পরিস্থিতি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার আর রাস্তা থাকে না সাধারণত।বিশ্বের অন্যান্য মনোবিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে যৌথভাবে এ নিয়ে গবেষণা চালায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ। সেখানকার অধ্যাপক পল হ্যারিসন বলছেন, `কোভিড থেকে যারা সুস্থ হয়ে উঠছেন, তাদের মধ্যে সম্প্রতি মানসিক রোগ দানা বাঁধার প্রবণতা বাড়ছে। এ নিয়ে আমরাও চিন্তিত।
বিশ্বের সমস্ত বিজ্ঞানী, চিকিৎসকদের কাছে আমার আবেদন যে এর কারণ খোঁজার দিকে আমরা যেন মন দিই এবং নির্দিষ্টভাবে এসব রোগীদের জন্য ভিন্নতর চিকিৎসা পদ্ধতিও বের করা প্রয়োজন।’ ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের অধ্যাপক মাইকেল ব্লুমফিল্ডের কথায়, ‘এই মহামারি শরীরের চেয়ে মনের উপর বেশি প্রভাব ফেলছে বলে মনে হয়। ল্যানসেট সাইকিয়াট্রি জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, কোভিড পজিটিভ থেকে যারা নেগেটিভ হয়েছেন, তাদের নিয়েই সমীক্ষা চালানো হয়েছিল।
দেখা গিয়েছে, সুস্থ হওয়ার তিন মাস পর প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন মনের অসুখে আক্রান্ত। অথচ আগে এদের কারও কোনও মানসিক সমস্যার লেশমাত্র ছিল না। আর যারা মানসিক সমস্যায় ভোগেন, কোভিডের পর তাদের সেই সমস্যা অন্তত ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং, কোভিড আক্রান্তরা নিজেদের মন নিয়ে সচেতন থাকুন। ভাইরাস শরীর থেকে বেরিয়ে গেলেও মনখারাপের জীবাণু বাসা বাঁধছে না তো?