অনলাইন ডেস্ক, ১৪ নভেম্বর।। বিহারে বিজেপি-জেডিইউ জোটের সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর দিওয়ালি ও ছট পুজোর মাঝে কোনও একদিন নতুন সরকার শপথ নেবে। জেডিইউ তুলনায় কম আসন পেলেও বিজেপি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, নীতীশ কুমারই রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কা, নীতীশ মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি এবার প্রবল চাপে থাকবেন। কারণ বিজেপি নীতীশের দলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ আসন পেয়েছে। কাজেই নীতীশকে বিজেপির বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। বিহারে এবার ৭৫ টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হয়েছে রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি।
এরপর বিজেপির আসন সংখ্যা ৭৪ । নীতিশের দল শেষ করেছে ৪৩ টি আসন পেয়ে। এলজেপি মাত্র একটি আসনে জয়ী হলেও একাধিক আসনে ভোট কেটে জেডিইউকে ৪৩-এ নামিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। বিহারে সরকার গড়তে প্রয়োজন ১২২ জন বিধায়কের সমর্থন। এনডিএ-র রয়েছে ১২৫ জন বিধায়ক। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এবার এনডিএকে যথেষ্ট সতর্ক হয়ে সরকার চালাতে হবে। সামান্যতম ভুলত্রুটি হলে সরকার পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি বিজেপির কর্তৃত্ব মেনে কতটা কাজ করতে পারবেন সেদিকেও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ নীতীশ নিজের ভাবমূর্তি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।
তাই আগামী পাঁচ বছর তাঁকে যদি মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতেই হয় তাহলে একাধিক ক্ষেত্রে তাঁকে বিজেপির সঙ্গে আপস করতে হবে বলে মনে করছেন তাঁরা। পূর্ববর্তী সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুশীল মোদি অবশ্য জানিয়েছেন, নীতীশ কুমার আগের মতোই সরকার চালাবেন এবং তিনি রাজ্যবাসীকে সুশাসন উপহার দেবেন। সুশীল একথা জানালেও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এটাও আসলে বিজেপির কৌশল। কেননা একসময় চাপের মুখে নীতীশ সরে দাঁড়াবেন।
সে ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী হবেন সুশীল মোদি।এই মুহূর্তে বিহারের যা পরিস্থিতি তাতে সরকার গঠন নিয়ে ঘোড়া কেনাবেচার কথা উড়িয়ে দিচ্ছে না রাজনৈতিক মহল। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র তিনটি আসন বেশি পেয়েছে এনডিএ। অন্যদিকে সরকার গঠন নিয়ে বিজেপি ও জেডিইউয়ের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। মূলত দুই দল থেকে কতজন মন্ত্রী হবেন এবং কাদের মন্ত্রী করা হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে।