মাতাবাড়ির দীপাবলি উৎসব সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের উৎসব

৷৷তপন কুমার দাস৷৷ মন্দির নগরী উদয়পুর এক সময়ে ত্রিপুরার রাজাদের রাজধানী ছিল৷ এখানে রয়েছে ৫১ পীঠের এক পীঠ মাতা ত্রিপুরা সুুন্দরী মন্দির৷ এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর কার্তিক মাসের অমাবস্যায় এখানে দীপাবলি উৎসবের আয়োজন করা হয়৷

এই উৎসব আমাদের বহু বছরের ঐতিহ্য৷ একান্ন পীঠের অন্যতম পীঠ মাতা ত্রিপুরা সুুন্দরী মন্দিরকে কেন্দ্র করে দীপাবলি উৎসবে মেতে উঠে মানুষ৷ মন্দির সেজে উঠে আলোকের ঝর্ণাধারায়৷ দুইদিন ধরে এই উৎসবে ধনিত হয় মানুষের ঐক্য ও সংহতির সুুর৷ ব্যতিক্রম শুধু এবার৷ দীপাবলি উৎসব এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে করোনা আবহে৷

মাতাবাড়ির দীপাবলির উৎসব এবার কোভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে আগামী ১৪ ও ১৫ নভেম্বর উদযাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ দেশের ৫১ পীঠের মতো ত্রিপুরা সুুন্দরী মন্দিরের সাথেও জড়িয়ে আছে পুরানো কাহিনী৷ ঐতিহাসিকদের মতে ১৫০১ সালে মহারাজা ধন্যমানিক্য এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন৷ পরে ১৬৮২ সালে রাম মানিক্যদেব সংস্কার করেন মন্দিরটি৷ মন্দিরের গর্ভগৃহে আর একটি দেবী মূর্তি রয়েছে৷ এই মূর্ত্তিটি ছোট মা হিসাবে পূজিত হয়ে আসছেন৷

প্রস্তরে নির্মিত এই মূর্তিটির দৈর্ঘ্য ৪৮ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ৩৫ সেন্টিমিটার৷ পুরাণ অনুসারে দেবী সতীর দক্ষিণ পদ পতিত হয়েছিল এখানে৷ এখানে দেবী ত্রিপুরা সুুন্দরী ও ভৈরব ত্রিপুরেশের মূর্তি কালো কষ্টি পাথরে নির্মিত৷ এই মূর্তি রাজ আমল থেকেই পূজিত হয়ে আসছে৷ প্রতিদিন অগনিত ভক্ত আসেন পূজাচর্না ও আশীর্বাদ নিতে৷ এ বছর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে কোন মেলার আয়োজন, সাংস্ক’তিক অনুষ্ঠান, দোকান পাট ও প্রদর্শনী মণ্ডপ খোলা হবে না৷

শুধু নিয়ম মেনে পূজাচর্নার আয়োজন করা হয়েছে৷ কল্যাণ সাগরের পাড়ে মঙ্গল আরতি হবে৷ প্রত্যেক দর্শনার্থী বা পূণ্যার্থীকে কোভিড-১৯ এর নিয়মাবলী মেনেই মায়ের দর্শন করতে হবে৷ অবশ্যাই মাস্ক পড়ে আসতে হবে৷ সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে৷ এবছর পূন্যার্থীরা মায়ের পূজা সরাসরি বিভিন্ন বৈদ্যুতিক চ্যালেনে দেখতে পারবেন৷ তথ্য ও সংস্ক’তি দপ্তরের উদ্যোগে শহর এলাকায় ২টি বড় এল ই ডি নি লাগানো হবে৷

এই মাধ্যমে মায়ের পূজা, সন্ধ্যা আরতি, মঙ্গল আরতি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে৷ স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ২টি মেডিক্যাল টিম সর্বক্ষণের জন্য নিয়োজিত থাকবে৷ পূন্যার্থীদের যাতে কোন অসুুবিধা না হয় তার জন্য জেলা প্রশাসন ও আরক্ষা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে৷ এই উৎসব প্রতিটি মানুষের জীবনে সুুখ শান্তি বয়ে নিয়ে আসে৷ এই উৎসব দূর করে সমস্ত মলিনতা আর বয়ে নিয়ে আসে সুুখ সমৃদ্ধি কল্যাণ৷

সকলের কাছে এই উৎসব সম্পীতি ও সৌভ্রাত’ত্বের উৎসব হিসাবে পরিগণিত৷উৎসবের দিনগুলিতে মন্দির প্রাঙ্গণে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হবে৷ এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে সেই রকমভাবে কোন জমায়েত হবে না৷ পূজার রীতিনীতি ঠিকই থাকবে৷ তবে সামাজিক দূরত্ব মেনে৷ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এই বাধ্যবাধকতা আমাদের মেনে নিতেই হবে৷

সবার সহযোগিতায় আমাদের রাজ্য, আমাদের দেশ, সারাবিশ্ব সহসাই করোনা মুক্ত হবে৷ আমরা আশায় বুক বেধে আছি৷ সবাই মিলে সুুস্থভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে মানুষকেই৷ আগামী বছর আমরা আবার মিলিত হব আমাদের বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী দীপাবলি উৎসবে৷ এই আকাঙ্খা এবং প্রার্থণা নিয়েই এবার আমরা উদযাপন করব আলোর উৎসব দীপাবলি৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?