স্টাফ রিপোর্টার, উদয়পুর, ১২ নভেম্বর৷৷ ছাই দিয়ে আগুনকে চেপে রাখা যায় না৷ আগুনের লেলিহান শিখা ছাইকে ভেদ করে বেরোবেই৷ এই রকম ঘটনাই ঘটলো ত্রিপুরার উদয়পুর মহকুমা অন্তর্গত ৩১ রাধাকিশোরপুর বিধানসভার অন্তর্গত ৪৫নং বুথের খিলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এক নং ওয়ার্ডের পিন্টু কুমার সাহা ও তুলসী রানী সাহার মেধাবী ছেলে দীপ্তনু সাহার ক্ষেত্রে৷ দীপ্তনু উদয়পুর ইংলিশ মিডিয়াম সুকলের এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলো৷ ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত দীপ্তনু ঐ বিদ্যালয়ের প্রথম স্থানাধিকারী মেধাবী ছাত্র ছিলো৷
কিন্তু নবম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীতে চতুর্থ স্থান দখল করে ২০১৯ সালের টেস্ট পরীক্ষায় ৪৭৬ নাম্বার অর্জন করে৷ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পিতা পিন্টু কুমার সাহা ও গৃহিনী মাতা তুলসী রানী সাহা সহ উদয়পুর ইংলিশ মিডিয়াম সুকলের শিক্ষক/ শিক্ষিকা, বন্ধু/বান্ধবী,খিলপাড়া গ্রামের শুভানুধ্যায়ীরা অধীর আগ্রহে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০২০র ফলাফলের দিকে তাকিয়ে দীপ্তনুর ফলাফলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন৷
দীপ্তনু টেস্ট পরীক্ষার থেকে ৯ নম্বর কম পেয়ে মাধ্যমিকে ৪৬৭ পাওয়ায় সুকল কর্তৃপক্ষ ও মা বাবার পরামর্শে দীপ্তনু রিভিউর আবেদন করে৷ রিভিউর ফলাফলে ৮ নম্বর বেড়ে মোট নম্বর হয় ৪৭৫৷ তাতেও ফলাফলে দীপ্তনু খুশি নয়৷ সে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চ্যালেঞ্জ করে সেল্ফ ইন্সপেকশানের জন্য আবেদন করে৷ সেখানে আরও ৭নাম্বার বেড়ে দীপ্তনু ৪৮২ নম্বর পেয়ে যৌথ ভাবে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা-২০২০তে চতুর্থ স্থান দখল করে৷ এই ফলাফলেও দীপ্তনু সন্তুষ্ট নয়৷
আজ তার এই ফলাফলে আবেগে আপ্লুত হয়ে খিলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত ও ৩১ আর কে পুর মন্ডলের পক্ষ থেকে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে করা হয় দীপ্তনুর খিলপাড়া স্থিত নিজ বাড়িতে৷ উপস্থিত ছিলেন খিলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানিক চক্রবর্তী, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুজিত কুমার লোধ, ৩১ আর কে পুর মন্ডল সভাপতি প্রবীর দাস, শক্তি কমিটির সদস্য কুন্তল দাস, কুলক চক্রবর্তী সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ৷
দীপ্তনুর এই দৃঢ় প্রত্যয় দীপ্তনুকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে নেতৃত্বরা দাবি রাখেন৷ খিলপাড়া সহ গোটা উদয়পুর দীপ্তনুর ফলাফলে আপ্লুত হলেও একটা কথা সবার মুখে মুখে শোনা গেলো- এই ফলাফলের জন্য দায়ী থাকল কে ? ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কি এর উত্তর দিতে পারবে? প্রশ্ণ কিন্তু থেকেই গেলো৷