স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১ নভেম্বর।। শেষ বেলায় ঢাকঢোল পিটিয়ে বাজারে নামল এনফোর্সমেন্ট টিম। কারণ শারদ উৎসবকে কেন্দ্র করে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে পড়ে। কিন্তু পুজোর আনন্দে সদর মহকুমা প্রশাসন ভুলেই গেল রাজ্যের সাধারণ মানুষের কথা। দুর্গাপূজার প্রাকমুহুর্তে থেকেই বাজার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। স্যন্দন পত্রিকায় একাধিকবার এই খবর প্রকাশিত হলেও শারদ উৎসবের পূজার মুহূর্তে প্রশাসন ময়দানে নামেনি। অবশেষে দুর্গাপূজা এবং লক্ষ্মী পূজা শেষ হওয়ার পর ময়দানে নেমেছে সদর মহকুমা প্রশাসনের এনফোর্সমেন্ট টিম। উল্লেখ্য, শারদ উৎসবের আগে থেকেই রাজ্যের বাজারগুলিতে বিভিন্ন সামগ্রী মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি হতে শুরু করেছে। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পরও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রির মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসতেই শনিবার পশ্চিম জেলা শাসকের কনফারেন্স হলে প্রশাসনিক আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন ও সমস্ত মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন পশ্চিম জেলার জেলাশাসক শৈলেশ কুমার যাদব। জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
পাইকারি মূল্য ঠিক থাকলেও বাজারগুলিতে খুচরো মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে চলেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্য হ্রাস করতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রবিবার থেকে রাজ্যের বাজারগুলিতে এনফোর্সমেন্ট চালানো হবে। এর জন্য বিভিন্ন দল গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক রবিবার রাজধানীর মহারাজগঞ্জ বাজার, লেইক চৌমুহনি বাজার সহ আরো বেশ কয়েকটি বাজারে সদর মহকুমা শাসক অসীম সাহার নেতৃত্বে এনফোর্সমেন্ট চালানো হয়। সদর মহকুমা শাসক জানান, সব্জির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিগত ১৫ দিন আগে যে মূল্য ছিল সেই মূল্য আবার ফিরে এসেছে সামগ্রীর মূল্য। এভাবে চললে জিনিসপত্রের মূল্য কিছুটা কমতে পারে। ভারত সরকার ভুটান থেকে আলু আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজ্যে পেঁয়াজের প্রচুর পরিমাণে মজুত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য সেভাবে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। ক্রেতাদের মধ্যে একটা মানসিকতা কাজ করে।সেটা হলো মূল্য বৃদ্ধি পেলে সামগ্রীর সংকট বলে প্রচার করা হয়। একইসঙ্গে অতিরিক্ত মাত্রায় সামগ্রী কেনার প্রবণতা থাকে। যার ফলে একাংশ ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দেয় সামগ্রির। এতে করে সাধারণ মানুষ কষ্ট পায়।
তাই এই ধরনের প্রবণতা থেকে বিরত থাকার জন্য সদর মহকুমা শাসক অসীম সাহা আহ্বান জানান। জিনিসপত্রের অভাব নেই প্রচুর পরিমাণে মজুত রয়েছে। যাচাই করে ক্রেতাদের সামগ্রী কেনার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেন তিনি। একইসঙ্গে বাজার কমিটি গুলির সঙ্গে কথা বলেন সদর মহকুমা শাসক। ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। আগামী দিনে ভালো মাত্রায় সবজি বাজারে আসবে বলে তিনি জানান। ফল, মাছ, মাংসের মূল্য বর্তমানে সঠিক জায়গায় এসেছে বলে জানান তিনি। বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলেও জানান। এদিন মাক্স পরিধান ও সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রাখার বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন সদর মহকুমা শাসক। সোশ্যাল ডিসটেন্সের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবে মাপ করেন না। এটা চিন্তার বিষয় বলে জানান সদর মহকুমা শাসক। এর জন্য বেশ কিছু মানুষকে জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।