যখন অধিকার না পায়, তখন আলাদা হওয়ার চিন্তা ভাবনা আসে : মুখ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৯ অক্টোবর।। রাজ্যে এডিসির পূর্বে কোন নামাকরণ ছিল না। বর্তমান সরকা এডিসি নামাকরন টি টি এ ডি সি করার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রী অমিত শাহ -র কাছে। রাজ্যের ব্রু রিয়াং শরণার্থীদের জন্য সরকার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। এডিসি এলাকার রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মঞ্জুরি পাঠানো হয়েছে। মঞ্জুরি হয়ে গেলে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে রাস্তার চিত্র সম্পূর্ণভাবে বদলে যাবে। বৃহস্পতিবার স্টেট গেস্ট হাউসে সমাজপতিদের শুভ বিজয়ার প্রীতি সম্মিলনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখে এমনটাই বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে নতুন দিশায় কাজ করে চলেছেন। আর রাজ্যে পূর্বে পৃথক রাজ্য ত্রিপুরাল্যান্ড গঠনের দাবি উঠেছিল।

আর এটা স্বাভাবিক। কারণ মনে যখন ব্যথা থাকে, অধিকার না পায়, তখন আলাদা হওয়ার চিন্তা ভাবনা আসে। তাই বর্তমান সরকার গত আড়াই বছরে এডিসি উন্নয়নের জন্য সার্বিক ভাবে কাজ করে চলেছে। কারণ বর্তমান সরকার জাতি উপজাতি সকলের সার্বিক উন্নয়নের কথা চিন্তা ভাবনা করে এক নতুন দিশায় কাজ করে চলেছে। আর প্রধানমন্ত্রী নতুন দিশা নয়া শিক্ষানীতিও চালু করেছেন। নয়া শিক্ষানীতিতে বিশেষভাবে প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হবে মাতৃভাষার উপর। যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষার আলো দেখতে পারে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন বক্তব্য রেখে বললেন, স্বাধীনতার পর কোন সরকার যদি চৌধুরী, সমাজ পতিদের আমন্ত্রণ করে সম্মান জানিয়ে থাকে তাহলে বর্তমান সরকারি জানিয়েছে। এর জন্য বর্তমান সরকারকে তিনি শুভেচ্ছা জানান।

পাশাপাশি তিনি বলেন, সমস্ত কিছু রাজনীতি দিয়ে হয় না। রাজনীতি হলো এক পৃথক বিষয়। স্বাধীনতার ৭০ বছর হয়েছে সমাজকে মন্ত্রী এবং বিধায়করা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে পরিচালনায় চেষ্টা করে এসেছে। আর বিগত দিনে রাজ্যের জনজাতিরা আলাদা হতে চেয়েছে। এর মূল কারণ হলো সমাজে জনজাতি অংশের মানুষ সঠিক সম্মান পায় না। আর অধিকারের জন্য আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ পূর্বের সেইসব রাজনীতিবিদরা জানেন না রাজনীতি ভগবানের ভূমিকা নয়। পুইলা জাতি ওইলা পার্টি কোন রাজনৈতিক স্লোগান নয়। ঘৃণার রাজনীতি ছেড়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই শ্লোগান দেওয়া হয়েছে।

যাতে সমাজকে একটি অরাজনৈতিকভাবে জনস্বার্থে পরিচালনা করা যায়। যেখানে রাজনীতির পরিবর্তে পজেটিভ কাজ করা হবে বলে জানান প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন ২৩ বছর ধরে রাজ্যে ৩৫ হাজার ব্রু শরণার্থী রয়েছে, তাদের যাতে দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের নাম জনজাতি কল্যাণ দপ্তর রাখার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রেবতী কুমার ত্রিপুরা, রাজস্ব মন্ত্রী এন সি দেববর্মা, উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা মন্ত্রী সান্তনা চাকমা সহ সমাজপতিরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?