অনলাইন ডেস্ক, ২৮ অক্টোবর।। এবার মহাকাশ অভিযানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে ভারত ও আমেরিকা। এই দুই দেশ যৌথভাবে তৈরি করতে চলেছে এক নতুন কৃত্রিম উপগ্রহ। দুই বছর পর ২০২২-এ এই কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হবে। এই কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করার জন্য ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এবং আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা একটি চুক্তি করেছে। এই কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করতে দুই দেশই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করবে। তবে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হবে ভারতের কোনও উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে। দু’দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেও। এই সফরে তিনি ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই পম্পেও এই কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানান। ভারত ও আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে তৈরি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সীমান্ত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং শত্রুদের গোপন গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারবে। এখানেই শেষ নয়, এই উপগ্রহ মারফত জলবায়ুর বদল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে। বর্তমানে গোটা বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে গোটা বিশ্বেই জলবায়ুর চরিত্র বদলে যাচ্ছে। জলবায়ুর চরিত্রবদল হওয়ায় কখনও কোথাও প্রবল ঝড়-বৃষ্টি কখনও বা অনাবৃষ্টি হয়ে চলেছে। মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু জায়গায় হিমবাহ গলতে শুরু করেছে। ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই স্যাটেলাইট জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানাবে। এই কৃত্রিম উপগ্রহ মারফত যে সমস্ত ছবি পাওয়া যাবে তা বিজ্ঞানীদের জলবায়ু বদল সংক্রান্ত গবেষণার কাজে বিশেষ সহায়ক হবে। ভারতের তৈরি জিএসলভি রকেটে চাপিয়ে এই কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠান হবে বলে জানানো হয়েছে। এই কৃত্রিম উপগ্রহের শক্তিশালী ক্যামেরায় সীমান্তের প্ৰকৃত ছবি ও শত্রুদের গোপন গতিবিধিও ধরা পড়বে। জঙ্গিদের গোপন গতিবিধিও ধরা পড়বে এই কৃত্রিম উপগ্রহের ক্যামেরায়। এই সব ছবি বিশ্লেষণ করে ভারত তার সীমান্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পারবে।