স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২০ অক্টোবর।। দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বিলোনিয়ায় বাস চালক ও খালাসীকে মারধর করার ঘটনার প্রতিবাদে টানা তিনদিন ধরে রাজ্যজুড়ে চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বা চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ায় যাত্রীদুর্ভোগ চরমে ধারণ করেছে। শারদ উৎসবের প্রাক্কালে বাস চালকদের এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রীসাধারণ চরম দূর্দশার সম্মুখীন হয়েছেন।
প্রথমদিন দক্ষিণ ত্রিপুরা গামী বাস চলাচল বন্ধ রাখা হলেও আজ থেকে সারা রাজ্যেই বা চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। নাগের জলা মোটর স্ট্যান্ড এর পাশাপাশি মঙ্গলবার চন্দ্রপুর আই এস বি টি এবং রাধানগর স্ট্যান্ড থেকে কোন ধরনের বাস চলাচল করেনি।এর ফলে গোটা রাজ্যে ই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।পাঁচ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় যাত্রীরা মঙ্গলবার মোটর স্ট্যান্ড এ প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হন।বাচ্চা লোকদের সঙ্গে আলোচনা ক্রমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য যাত্রীসাধারণ সরকার এবং প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন। ক্ষুব্দ যাত্রীদের অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে বাচ্চা লোকরা ধর্মঘটে সামিল হয়েছে।পূজার মরসুমে যাতে এ ধরনের ধর্মঘট অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় সেজন্য বাচ্চাদের কাছে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি সরকার ও প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য দাবি জানানো হয়েছে।
বা চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ার ফলে দূরপাল্লার যানবাহন যাত্রী পরিষেবা প্রায় স্তব্ধ। ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করলেও অধিকসংখ্যক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। এক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। এর ফলে করুণ ভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ার সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে ছোট ছোট যানবাহন গুলিতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রশাসনের এ কর্মকর্তা জানিয়েছেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে কারোর কোন অন্যায় আবদার প্রশাসন মেনে নেবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাত্রীরা যাতে কোনো ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন না হন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় দূরপাল্লার যাত্রীরা ট্রেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ফলশ্রুতিতে লোকাল ট্রেন গুলি তে যাত্রীদের চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কোন ভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
এর ফলে পূজার মৌসুমে করুণ ভাইরাস সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।