স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৯ অক্টোবর।। রাজ্যের ঐতিহ্য বাঁশ ও বেত শিল্পের উৎপাদিত পণ্য আর্ন্তজাতিকস্তরে বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ এরফলে রাজ্যের বাঁশ ও বেত শিল্পের সাথে জড়িত শিল্পীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন৷ আজ সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে ত্রিপুরা ব্যাম্ব মিশনের বিভিন্ন কর্মসূচির পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এ কথা বলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাঁশ রাজ্যের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ৷ বাঁশের তৈরী বিভিন্ন সামগ্রী দেশবিদেশে বাজারজাতকরণের মাধ্যমে রাজ্যের যুবক ও যুবতীদের আর্থিক উপার্জন বাড়ানোর উপর রাজ্য সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে৷ সভায় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে বাঁশ উৎপাদন আরো বাড়ানোর লক্ষ্যে ত্রিপুরা ব্যাম্ব মিশনকে বনদপ্তর, গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, জাইকা, হস্ততাঁত ও হস্তকারু দপ্তর, ত্রিপুরা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট এণ্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন লিমিটেড, ত্রিপুরা রিহেবিলিটেশন প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পরামর্শ দেন৷ সভায় শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে জানান, রাজ্যে বর্তমানে ২১ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়৷ বাঁশের উৎপাদিত আসবাবপত্র, অলংকার, আগরবাতি ইত্যাদি ব্যবহার অনেক বেড়েছে ৷
ত্রিপুরা ব্যাম্ব মিশন রাজ্যে বাঁশ ভিত্তিক শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে৷ এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২ হেক্টর হাইটেক নার্সারী, ১ হেক্টর বড় নার্সারী তৈরী করা, কুমারঘাটের রাতাছড়ায় ব্যাম্ব ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ, চাকমাঘাট ও কুমারঘাটে ২টি ব্যাম্ব ডিপো স্থাপন, ইন্দ্রনগরে কমন ফেসিলিটি সেন্টার স্থাপন, আগরবাতি তৈরীর ইউনিট স্থাপন এবং বাঁশ কড়ল প্রক্রিয়াকরনের ২টি ইউনিট স্থাপন৷ এছাড়াও ত্রিপুরা ব্যাম্ব মিশন ৮৫০ জন কারুশিল্পীকে বিভিন্ন টোল কিট প্রদান করেছে এবং ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ৫০০ জন বাঁশচাষীকে কাটার এবং স্প্লিটারস বিতরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের সচিব আরোও জানান, রাজ্যে আরোও ২৮টি ব্যাম্ব প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী আগরবাতি আত্মনির্ভর মিশন প্রকল্পে শীঘই রাজ্যের ৮টি জেলার মোট ৫০০ জন বাঁশচাষীকে টোল কীট প্রদান করা হবে৷
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের জনজাতি এলাকায় কম সময়ে রোজগার স’ষ্টি হয় এমন প্রকল্পগুলি রূপায়ণে বন দপ্তর ও শিল্পদপ্তরকে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে৷ রাজ্যের প্রসিদ্ধ হস্ততাঁত শিল্প, বাঁশবেত শিল্প এবং রাবার শিল্পে উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রীর বাংলাদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে৷ সেগুলি বাংলাদেশে বাজারজাতকরণের করার লক্ষ্যে শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরকে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করতে হবে৷ বাঁশ, বেত ও রাবার ভিত্তিক শিল্প সামগ্রী তৈরী করার ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রাখার উপরও মুখ্যমন্ত্রী সভায় গুরুত্ব আরোপ করেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাঁশবেত শিল্প, হস্তকারু শিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে রাজ্যের কারুশিল্পীগণ যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সুুযোগ স’ষ্টি হবে৷ বাঁশবেত শিল্প, হস্তকারু শিল্পে উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রীর প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন স্থানগুলির আশেপাশে শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরকে স্টল খোলার জন্য বলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
সভায় এছাড়াও ত্রিপুরা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট এণ্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন লিমিটেড, ত্রিপুরা রিহাবিলিটেশন প্ল্যানটেশন কর্পোরেশন লিমিটেড,জাইকা প্রকল্প এবং হস্ততাঁত ও হস্তকারু দপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে শিল্প ও বানিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে আলোচনা করেন৷ পর্যালোচনা সভায় মুখ্যসচিব মনোজ কুমার, গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সচিব সৌম্যা গুপ্তা, ত্রিপুরা ব্যম্ব মিশনের মিশন ডিরেক্টর প্রশান্ত কুমার গোয়েল,মুখ্য প্রধান বন সংরক্ষক ডি কে শর্মা, ত্রিপুরা ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট এণ্ড প্ল্যান্টেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রামেশ্বর দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷