স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৯ অক্টোবর।। সমস্যার সুত্রপাত করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর সাথে সাথে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কেউই প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু তথাপি সময়োপযোগী কিছু সিদ্ধান্ত করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা গ্রহণ করেছে। তবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় বর্তমানে পরিবহন ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে চরম জটিলতা। করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। তাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য পরিবহন দপ্তর থেকে বাস গুলিকে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের জন্য বলা হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যাত্রী ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে দপ্তর বাস্তব সম্মত চিন্তা ভাবনা করেনি। আর তার জেরেই বর্তমান সমস্যা। দেখা যায় একটি বাস গাড়িতে যদি ৪০ টি সিট থেকে থাকে, তাহলে ঐ বাস আগে আগরতলা থেকে সাব্রুম যাওয়ার-আসার ক্ষেত্রে ৮ হাজার টাকা আমদানি হতো, যদি যাত্রী পিছু ভাড়া ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়। কিন্তু ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের ফলে বর্তমানে সেই বাস গাড়ির আমদানি হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। কিন্তু আগরতলা থেকে সাব্রুম পর্যন্ত গাড়িটি আসা যাওয়ার খরচ আগের তুলনায় হ্রাস পায়নি। বরং তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে খরচ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। দপ্তর এই বিষয়টি চিন্তা ভাবনা করে বাস পরিষেবার ক্ষেত্রে আগের ভাড়া ঠিক রেখে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের বিষয়ে নির্দেশ দেয়।
এই ক্ষেত্রে বাস মালিকরা লাভের পরিবর্তে লোকসানের শিকার হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এতে করে বাস মালিকরা পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে অতি কষ্টে গাড়ি চালাচ্ছে। বাস চালক কিংবা মালিক কেউই এতে লাভবান নয়। তাই বাস মালিকরা সরকারি নির্দেশ মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রশ্নে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করছে ঠিক, ভাড়া দ্বিগুণ করে যাত্রীদের কাছ থেকে নেয়। যদিও দপ্তর ভাড়া দ্বিগুণ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এতে করে ক্রমশ সমস্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সম্প্রতি সাব্রুম-আগরতলা সড়কে এই সমস্যা প্রকট হয়ে দাড়ায়। বাস মালিকরা যখন যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া নেয়, তখন মনুবাজারে এক বাস চালককে হেন্সথা করা হয়। এতে করে অপমানে ঐ বাস চালক আত্মহত্যা করে। তার পরই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। একদিকে ৫০ শতাংশের বেশি যাত্রী পরিবহনের দায়ে প্রশাসন থেকে বাস চালকদের জরিমানা করা হচ্ছে, অন্যদিকে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের পর দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়ার জন্য বাস চালক ও সহ চালক জায়গায় জায়গায় হেনস্থার শিকার হচ্ছে। তারই প্রতিবাদে রবিবার থেকে নাগেরজলা স্ট্যান্ডে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে অনির্দিষ্ট কালের জন্য।
রবিবারের পর সোমবার রাধানগর ও চন্দ্রপুর আইএসবিটি স্ট্যান্ডেও বাস পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাস চালক ও মালিকরা। এইদিন নাগেরজলা, চন্দ্রপুর আইএসবিটি ও রাধানগর স্ট্যান্ডে ঠাই দাড়িয়ে থাকে বাস গুলি। বাস মালিক ও চালকদের দাবি সমস্যার সমাধান না হলে তারা বাস পরিষেবা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখবে।এইদিকে বাস পরিষেবা বন্ধ থাকার ফলে সাধারন যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌছায়। প্রায় প্রতিটি স্ট্যান্ডে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের। সঠিক সময়ে যাত্রীরা তাদের গন্তব্যস্থলে পৌছাতে ব্যর্থ হয়। সরকারি কর্মচারীরা সঠিক সময়ে অফিস পৌছাতে পারছে না। আর এই সুযোগে ছোট যান বাহন গুলি যাত্রীদের পকেট কাটছে। দেখা যাচ্ছে ১০০ টাকার পরিবর্তে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০০ টাকা, ৪০ টাকার জায়গায় ৮০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই ক্ষেত্রেও নেই কোন সরকারি নির্দেশ।
একাংশ ছোট গাড়ি সামাজিক দূরত্ব মানছে না। সিটের অতিরিক্ত যাত্রী তুলছে। যাত্রীরাই জানায় তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ছোট যান বাহন চালকরা স্বীকার করে তারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। তবে কেন অতিরিক্ত ভাড়া এই নিয়ে স্পষ্ট কোন উত্তর দিতে পারেনি ছোট যান চালকরা।তবে সময়োপযোগী সাময়িক একটা সিদ্ধান্ত সকল সমস্যার সমাধান সুত্র বের করে দিতে পারে। পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। তাই বাস গুলি ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করবে। এই ক্ষেত্রে সরকার ও বাস মালিক পক্ষ আলোচনায় বসে সমাধান সুত্র বের করতে পারে। প্রতিষেধক না আসা পর্যন্ত করোনার প্রকোপ থাকবে। কিন্তু মানুষের জীবনের কাছে টাকা কিছু নয়। সেই বিবেচনা করে, যাত্রী ভাড়া সাময়িক সময়ের জন্য বৃদ্ধি করা আবশ্যক। এই ক্ষেত্রে সরকার কিংবা পরিবহন দপ্তর কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। সাধারণত দেখা যায় যে কোন বাস গাড়ির সিট কেপাসিটি থাকে ৪০ থাকলে, সেখানে আরও ৫ থেকে ৬ টি সিট বৃদ্ধি করা হয়। বিশেষ করে চালকের পাশে অর্থাৎ কেভিনে ৪ থেকে ৫ জনের সিট তৈরি করা হয়। দপ্তর নির্দেশ দিতে পারে এই ধরনের সিটে কোন যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।