স্টাফ রিপোর্টার আগরতলা, ১৮ অক্টোবর।। পরিবহন মন্ত্রীর মৌখিক বক্তব্য এবং সরকারি নোটিশ ঘিরে যান চালকদের মধ্যে বিভ্রান্ত, মুখ থুবড়ে পড়ল শহর দক্ষিণাঞ্চলের যান চলাচল। রবিবার নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ড থেকে শহর দক্ষিণাঞ্চলে দূরপাল্লার বাস চলাচল ছিল সম্পূর্ণ বন্ধ। পাশাপাশি ছোট মাঝারি যানবাহনের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী প্রনজিৎ সিংহ রায় মৌখিকভাবে প্রচার মাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন যান চালকরা যাতে সিট ক্যাপাসিটি অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করে।
আর সেই মোতাবেক সিট ক্যাপাসিটি অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করলে সামাজিক দূরত্বের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীপ্রতি মাথাপিছু ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। আবার গত ১৫ অক্টোবর সরকারিভাবে নোটিশ জারি করে বলা হয়েছে গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে যাত্রী পরিবহন করার জন্য। এতে যান চালকদের সংগঠন এবং গাড়ির চালকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্ত। এমনকি গত শনিবার বীরচন্দ্র মনুতে সাউথ ত্রিপুরা বাস জীপ চালক সংঘের অমল দেবনাথের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন মিলে কয়েকজন বাস চালককে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেছে বলে অভিযোগ।
সাউথ ত্রিপুরা বাস জীপ চালক সংঘের কর্মীদের বক্তব্য সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ি চালানোর পাশাপাশি পূর্বের নির্ধারিত ভাড়া গ্রহণ করার জন্য সংগঠন থেকে বলা হচ্ছে। অর্থাৎ দুজনে আসনে একজনকে বসিয়ে দুজনে ভাড়া নেওয়া যাবে না বলে জানানো হচ্ছে। কিন্তু বাস চালক এবং শ্রমিকদের অভিমত যদি পূর্বের ভাড়াই নির্ধারিত ভাবে রাখা হয় তাহলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে বাস চালক, শ্রমিক এবং মালিকরা। এরই পরিপেক্ষিতে রবিবার সকাল থেকে নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ড থেকে ছিল যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস পুরোপুরি বন্ধ।
এবং রবিবার বীরচন্দ্র মনু বাসস্ট্যান্ডে সাউথ ত্রিপুরা বাস জীপ চালক সংঘের অমল দেবনাথ সহ বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বীরচন্দ্র মনু থানায় একটি মামলা দায়ের করা হবে বলে জানায় মালিক কর্তৃপক্ষ। যতদিন না পর্যন্ত সরকার পক্ষ থেকে কোনরকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে এবং অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা হবে ততদিন যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেসব মালিক কর্তৃপক্ষ। এতে রবিবার নাগেরজলা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল লক্ষণীয়।