জন্মদাতা পাষন্ড পিতার শারিরীক নির্যাতনের শিকার দুই অবুঝ শিশু

স্টাফ রিপোর্টার, বিলোনিয়া, ১৬ অক্টোবর।। জন্মদাতা পাষন্ড পিতার শারিরীক নির্যাতনের শিকার দুই অবুঝ শিশু । বাবার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবুঝ দুই শিশু চাইছে নিরাপদ জায়গায় থাকার আশ্রয় নিতে। যেখানে থাকবে না পাষন্ড পিতার অত্যাচার । জন্মদাতা পাষন্ড পিতার অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে চাইল্ড লাইনে যেতে চায় তারা । দিনের পর দিন জন্মদাতা পাষন্ড পিতার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সংবাদ মাধ্যম সহ বিলোনিয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে এই কথা গুলো বলে অবুঝ দশ বছরের শিশু । অপর শিশুর বয়স তের বছর । ১৩ বছরের শিশুটি কথা বলতে পারে না। জন্ম থেকে মুখ বধির । কথা বলতে না পারলেও ভাইয়ের সাথে সাথে ইশারায় বাবার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ব্যাক্ত করে । জন্মদাতা পাষন্ড অত্যাচারি পিতার নাম ধ্রুব দাস । দুই অবুঝ শিশুর উপর পাষন্ড পিতার শারীরিক মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় ছিঃ ছিঃ রব উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে । বিলোনিয়া থানার অন্তর্গত পশ্চিম কলাবাড়িয়া পঞ্চায়েতের জিরতলী শালবাগান এলাকায় এই ঘটনা । বাবা মদ্যপ ধ্রুব দাস ।

পাচ বছর আগে দুই অবুঝ শিশুর মা স্বপ্না দাস মারা যাওয়ার পর মদ্যপ ধ্রুব দাস দ্বিতীয় বার বিবাহ করে সোমা দাস নামে একটি মেয়েকে ঘরে তোলে । বাবা ধ্রুব দাস ও দ্বিতীয় পত্নী অর্থাৎ সৎ মা সোমা দাস দুই জনেই প্রথম সংসারের অবুঝ ছেলে মেয়েকে দিনের পর দিন অকথ্য নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠলো । একসময় অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিলোনিয়া চিত্তামারা এলাকায় কাকা প্রসেনজিৎ দাশের বাড়ীতে আশ্রয় নেয় । এই অবুঝ দুই শিশু আর বাবার কাছে যেতে চাইছে না । অবশেষে কাকা প্রসেনজিৎ দাসের সাহায্য নিয়ে চাইল্ড লাইনে খবর দেওয়ার পর সম্প্রত্তি চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তারা জিরতলীতে গিয়ে অবুঝ দুই শিশুর সাথে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানে । কিন্তু আইনের বেড়াজালে পড়ে দুই অবুঝ শিশুকে চাইল্ড লাইনে নিতে পারেনি । অবশেষে কাকা প্রসেনজিৎ দাস সহ অবুঝ দুই শিশু পুলিশের দারস্থ হয় ।

জুভেনাইল অ্যাক্ট অনুসারে বিলোনিয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌম্য দেববর্মা সহ এস আই চম্পা দাস শুক্রবার দুপুরে ছুটে যায় প্রথমে জিরতলীতে। কিন্তু সেখানে গিয়ে পাষন্ড পিতা ধ্রব দাস ও সৎ মা সোমা দাসকে না পেয়ে চিত্তামারা এলাকায় কাকা প্রসেনজিৎ দাসের বাড়িতে গিয়ে অবুঝ দুই শিশুর সাথে দেখা করে । ঘটনার বিস্তারিত জানেন । বিলোনিয়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সৌম্য দেববর্মা সহ এস আই চম্পা দাস মিলে এই দুই শিশুর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় খাবার দিয়ে । পাষন্ড পিতার শাস্তির পাশাপাশি এই অবুঝ শিশু দুটি চাইছে নিরাপদ আশ্রয় ও লেখাপড়া শিখতে । তাদের জন্য যাতে সেই ব্যাবস্থা করা হয় এই আকুল আবেদন অবুঝ দুই শিশুর।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?