স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১৩ অক্টোবর।। ১৩ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা দিবস। দিনটি রাজ্যেও যথাযথ মর্যাদার সহিত পালন করা হয়। সচিবালয়ে এনআইসি ভিডিও কনফারেন্স রুমে রাজ্যের মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকলকে শপথ বাক্য পাঠ করান মুখ্যমন্ত্রী।অনুষ্ঠানের সুচনা করে মুখ্যমন্ত্রী আলোচনা করতে গিয়ে বলেন এই আন্তর্জাতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা দিবসটি রাজস্ব দপ্তরের উদ্যোগে পালন করা হচ্ছে।
রাজ্যে স্কুলের সিলেবাসে দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক মাসের তৃতীয় শনিবার যেন ছাত্র ছাত্রিদের মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় সেই দিশাতে ত্রিপুরা সরকার কাজ করছে। একই সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের আপদ মিত্র অনুষ্ঠান চালু করতে যাচ্ছে রাজ্য সরকার। তার জন্য ইতিমধ্যে ২০০ ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। খুব কম সময়ের মধ্যে এই কাজ শুরু করা হবে।
পাশাপাশি গ্রামীণ স্তরে দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। রাজস্ব দপ্তরের উদ্যোগে খুব কম সময়ে তাও করা হবে বলে আশাব্যক্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকার বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।ত্রিপুরা রাজ্য ভূকম্পন এলাকা হিসাবে পরিচিত। জোন-৫ এ রয়েছে। ২০১৭ সালে ধলাই জেলায় ভু-কম্পন হয়েছিল। রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। তাতে ঊনকোটি ও উত্তর জেলারও কিছু খতি হয়েছিল। তারপর ত্রিপুরা রাজ্যে বড় ধরনের ভু-কম্পন হয়নি।
২০১৮ সালে উত্তর, ঊনকোটি ও পশ্চিম জেলায় বন্যা হয়েছিল। তখন উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রী রাজনাথ সিং বিশেষ বিমানে বোট পাঠিয়েছিলেন। এনডিআরএফ টিম পাঠানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে সবকিছু মকাবেলা করা হয়েছিল। এতে কারো প্রান হানি ঘটেনি বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদরে এইচ এম এম কমিউনিকেশান সিস্টেম চালু করা হয়েছে। আগরতলাতে ই আর এস এস চালু করা হয়েছে। সেখানে টোল ফ্রি নাম্বার রয়েছে ১১২।
কোথাও কোন দুর্যোগ হলে এই নাম্বারে যোগাযোগ করা যাবে।এবং দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরকে স্মার্ট সিটিতে পরিণত করার কাজ চলছে। ইন্টিগ্রেটেড কমন কন্ট্রোল সেন্টার সফলতার সাথে করা হয়েছে রাজ্যে। এতে দুর্যোগ মোকাবেলায় যথেষ্ট সহায়তা পাওয়া যায় বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি দেখা গেছে আগরতলা শহরে যখন জল জমেছে, তখন ইন্টিগ্রেটেড কমন কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সবকিছু প্রত্যক্ষ করা গেছে। এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়েছে।
একই সাথে অগ্নি নির্বাপণ দপ্তরের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে। কারন অগ্নি নির্বাপণ দপ্তর আগুন নিভানোর পাসাপাসি দুর্যোগ মোকাবেলার কাজও করে। রাজ্যে প্রায় ৩৬ হাজার এন এস এস ভলান্টিয়ার রয়েছে। রাজ্যে ভু স্ব-সহায়ক দল রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় এরা সকলে বড় ভুমিকা পালন করে। এদিন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার বিভিন্ন দিক অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রত্যেক জেলার জেলাশাসক অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজস্ব মন্ত্রী এন সি দেববর্মা সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।