স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ১০ অক্টোবর।। সংসদে পাস হওয়া কৃষি আইনকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গোটা দেশের সাথে রাজ্য ধারাবাহিকভাবে বিরোধীদলগুলির আন্দোলন বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে শনিবার পোস্ট অফিস চৌমুহনিস্থিত প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সম্মুখে প্রদেশ কংগ্রেস কৃষি আইনকে কৃষক স্বার্থবিরোধী কালো আইন বলে আখ্যায়িত করে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত করা হয়।
এদিন সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ কান্তি বিশ্বাস বক্তব্য রেখে বলেন, সংসদে পাস হওয়া কৃষি আইন বাতিল করতে হবে। যতদিন না এই বিল বাতিল হচ্ছে ততদিন কংগ্রেস আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্ষমতায় আসলে রাজ্যের চিটফান্ড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অর্থ ফিরিয়ে আনবে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে এখনও চিটফান্ড দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের অর্থ ফিরে আনার কোন ব্যবস্থা করছে না। প্রদেশ কংগ্রেস সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন প্রদান করে সেই চিটফান্ড সম্পর্কে বলেন রাজ্যের চিটফান্ডের যে সমস্ত সম্পত্তি বিক্রি করে রাজ্যের চৌদ্দ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত চিটফান্ড গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য।
সরকার তা করছে না। এমনকি মানুষের কাজ নেই। বেকারদের কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা করছে না সরকার। রেগার মজুরি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাড়ছে না। পাহাড়ে হাহাকার। রাজ্যে বিজেপি সরকারের পতন চাইছে মানুষ। মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে একমাত্র সম্মান দিতে পারে কংগ্রেস বলে জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি আরো বলেন বিজেপি কর্মকর্তারা বুঝতে পারছেন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাই তারা লুটপাটে নেমেছে। বিজেপি সাংসদ প্রকাশ্যে বলছেন, আইপিএফটি এবং এনএলএফটি সহযোগী।
পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে। তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন কেন আইপিএফটি সাথে জোট গড়েছে বিজেপি? আইপিএফটি জেলে থাকার কথা! তবে রাজ্যের মানুষ তার সঠিক জবাব দেবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।এদিন সম্মেলনের পর প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে এক প্রতিবাদী মিছিল প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সম্মুখ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্যারাডাইস চৌমুহনী এলাকায় যাওয়ার পূর্বেই পুলিশ দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়।
ধস্তাধস্তি হয় প্রদেশ কংগ্রেস কর্মীদের সাথে পুলিশের। ফলে কর্মীরা পুনরায় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের ফিরে আসে মিছিল করে। এদিন এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হরেকৃষ্ণ ভৌমিক, যুব কংগ্রেসের সভাপতি পূজন বিশ্বাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।