১৪ বছরের কিশোরী শ্যালিকাকে নিয়ে চম্পট দিল নাগর জামাই

স্টাফ রিপোর্টার, কদমতলা, ৫ অক্টোবর।। বড় বোনকে রেখে নাবালিকা ছোট বোনকে নিয়ে পালিয়ে গেল বোনজামাই। থানায় মামলা করতে গেলে ঘটনা মীমাংসার চাপ স্থানীয় থানার। অবশেষে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ প্রথম স্ত্রী ও শাশুড়ি। ঘটনা কদমতলা থানাধীন কালা গাঙেরপাড় এলাকায়। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন কালা গাঙেরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আবদুর রহিমের বড় কন্যা হালিমা বেগমকে বছর তিনেক পূর্বে পালিয়ে নিয়ে যায় ধর্মনগরের শাখারী বাড়ির মস্কান আলী পিতা মস্তকিন আলি। পরে তাদের ইসলাম ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ে হওয়ার পর স্ত্রী হালিমা বেগম জানতে পারে মস্কান আলী আগে থেকেই বিবাহিত। দুটি সন্তান ও স্ত্রী রয়েছে। স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দায়িত্ব খালাস করে ফেলেছে স্বামী মস্কান আলী। যদিও দ্বিতীয় স্ত্রী হালিমা বেগম তা মেনে নিয়ে স্বামী মুস্কান আলীকে নিয়ে সংসার করতে শুরু করে। তারপর হালিমা এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

কিন্তু হালিমাকে গর্ভবতী অবস্থায় ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে ফেলে স্বামী চলে যায় আর ফিরে আসেনি। বর্তমানে তাদের মেয়ের বয়স ১৪ মাস। স্বামী খোঁজখবর না নেওয়াতে হালিমা বেগম মায়ের আশ্রয়ে বর্তমানে রয়েছে। কিন্তু গত ৩ জুলাই স্বামী মস্কান আলী দিন দুপুরে কালা গাঙেরপাড় শ্বশুরবাড়িতে এসে ১৪ বছরের নাবালিকা শালিকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আর তখন বাড়িতে কেউ ছিল না,সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একপ্রকার জবরদস্তি নবালিক শালিকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে বলেও শাশুড়ি ও স্ত্রী হালিমা বেগমের অভিযোগ। তারপর শাশুড়ি তয়রুন নেছা কদমতলা থানায় নাবালিকা মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু পুলিশ কোন ভূমিকা পালন করেনি বলে তাদের অভিযোগ। অবশেষে ১ লা অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯ টা নাগাদ নিখোঁজ হওয়া নাবালিকা মেয়েটি মা তয়রুন নেছার নিকট ফোন করে বলে তাকে উদ্ধার করার জন্য।

মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী কদমতলা থানার সহযোগিতা নিয়ে ধর্মনগর কলেজ রোড এলাকা থেকে বড় মেয়ের স্বামী মস্কান আলি সহ নাবালিকা ছোট মেয়েকে উদ্ধার করে কদমতলা থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তারপর কদমতলা থানায় শাশুড়ি তয়রুন নেছা ও স্ত্রী হালিমা বেগম মস্কান আলীর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচার ক্রমে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু কদমতলা থানার হাবিলদার আব্দুল সালাম ও বড়বাবু কৃষ্ণধন সরকার মামলা হাতে না নিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য নাবালিকার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করেন বলেও নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, কদমতলা থানার পুলিশ আপোষ মীমাংসা করে ৩০ হাজার টাকা দ্বিতীয় স্ত্রী হালিমা বেগমকে দেওয়া এবং নাবালিকা ছোট বোনকে বড় বোনের স্বামী মস্কান আলির কাছে দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু মেনে নেননি শাশুড়ি ও স্ত্রী। অবশেষে কদমতলা থানার বড়বাবু কৃষ্ণধন সরকার নাবালিকার পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করে বলেন, ৪ টি কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা মস্কান আলি স্ত্রী হালিমা বেগমকে দেবে।

এবং ১৪ বছরের নাবালিকা ছোট বোনকে তার বোন জামাতার হাতে তুলে দেন বড়বাবু বলেও নাবালিকার মা ও বড় বোনের বক্তব্য। বর্তমানে নাবালিকা ছোট বোন মস্কান আলীর সাথে রয়েছে। এই পুরো ঘটনাটি সংবাদ কর্মীরা ক্যামেরাবন্দি করতে গেলে কদমতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার চটে লাল হয়ে সংবাদকর্মীদের বলেন কেন ভিডিও করছেন। এধরনের খবর সম্প্রচার না করলেই তো হয়। কদমতলা থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকারের এহেন আচরণে নানা মহলে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এমনকি হালিমা বেগম ও তার মা তয়রুণ নেছা পুলিশের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ করে বলেন যে,কদমতলা থানার বড়বাবু কৃষ্ণধন সরকার ও হাবিলদার আব্দুল সালাম নাকি তাদের হুমকি দিয়ে বলেছেন মহিলাদের কোন বিচার নেই,তোমরা যদি টাকা নিয়ে আসতে পারো তাহলে আমরা বিচার করে দেব নতুবা আমরা যেভাবে মীমাংসা করছি সেভাবেই তোমরা মেনে নাও।কদমতলা থানার পুলিশের এহেন ভূমিকায় সন্তুষ্ট না হয়ে অবশেষে গত ৩ রা অক্টোবর উত্তর জেলার পুলিশ সুপার ভানুপদ চক্রবর্তীর নিকট লিখিত অভিযোগ করেন শাশুড়ি তয়রুন নেছা ও স্ত্রী হালিমা বেগম।এবং এই গোটা বিষয়টিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এর হস্তক্ষেপ চাইছেন পিড়িতা পরিবারের লোকজন সহ এলাকাবাসী।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?