স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২ অক্টোবর৷৷ করোনা-র আবহে ত্রিপুরায় আরও শিথিল হল বিধিনিষেধ৷ অবশ্যই, কেন্দ্রীয় সরকার ছাড় দেওয়ায় রাজ্য সরকারও বিধিনিষেধে শিথিল করতে পেরেছে৷কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব কন্টেইনমেন্ট জোনের বাইরে আরও কিছু কার্যকলাপ খুলে দেওয়ার জন্য এবং কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন জারি রাখার ব্যাপারে কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে৷
সেই পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপুরা ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির অধীন স্টেট এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মুখ্যসচিব ত্রিপুরাতে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর সময়ের জন্য রি-ওপেনিং গাইডলাইনস – ত্রিপুরা জারি করেছেন৷ এই নির্দেশিকা কন্টেইনমেন্ট জোনের বাইরে কার্যকর হবে এবং কন্টেইনমেন্ট জোনে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত লকডাউন জারি থাকবে বলে ত্রিপুরা সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিবের এক আদেশে জানানাে হয়েছে৷
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন জারি থাকবে এবং জেলাশাসক এই জোনগুলির পরিস্থিতি পর্যালােচনা করবেন৷ অজ্ঞাত উৎস থেকে সংক্রমিত কয়েকটা বাড়ি নিয়ে কন্টেইনমেন্ট জোন থাকবে সেখানে৷ ওই এলাকায় একমাত্র জরুরি প্রয়ােজনীয় কার্যকলাপ চালু থাকবে৷ কন্টেইনমেন্ট জোনে আসা যাওয়ার যান ও মানুষের চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে৷ শুধু নিত্যপ্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদি ও পরিষেবা, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ও জীবিকা সংক্রান্ত চলাচল চলবে৷ কন্টেইনমেন্ট জোনে নিত্যপ্রয়ােজনীয় দ্রব্য এবং পরিষেবা বাড়ি বাড়ি পৌছে দেওয়া যেতে পারে৷
রােগীদের সংক্রমণের ধারা নির্ণয়, বাড়ি বাড়ি নজরদারি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ সর্বশেষ রোগী চিহ্ণিত হওয়ার ১৪ দিন পর কন্টেইনমেন্ট জোন অরেঞ্জ জোন হিসেবে ঘােষণা করা হবে এবং সর্বশেষ রােগীকে ছুটি দেওয়ার পর কন্টেইনমেন্ট জোনের উপাধি তুলে নেওয়া হবে৷ শহর ও জেলাকে রোগ মুক্ত বলে ঘােষণা করা হবে একমাত্র সর্বশেষ রােগীর আর টি পি সি আর টেস্ট নেগেটিভ হওয়ার ২৮ দিন পর৷
বিজ্ঞপ্তিতে কন্টেইনমেন্ট জোনের বাইরে আনলক নির্দেশিকাও ঘোষণা করা হয়েছে৷ তাতে, সমস্ত রকম ব্যবসা বাণিজ্য, দোকান ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলতে পারবে৷ তবে দোকান, মার্কেট কমপ্লেক্স ও শপিং মলগুলি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে খােলা থাকতে পারবে৷ যেসব দোকানের সামনে এক মিটারের কম প্রশস্ত জায়গা থাকে সেক্ষেত্রে এক সময়ে একজন মাত্র ক্রেতাকে ঢুকতে দেওয়া হবে৷
যেসব দোকানের সামনে দুই মিটারের বেশি জায়গা থাকবে সেখানে দু’’জন ক্রেতা একসাথে ঢুকতে পারবে এবং বাকিরা তার পিছনে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়াবে৷ বাজার এলাকা প্রতিদিন স্যানিটাইজ করতে হবে৷ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে৷
আন্তঃরাজ্য, আন্তঃজেলা এবং জেলার ভিতরে সরকারি ও বেসরকারি যান পরিষেবা চলাচল করতে পারবে৷ তবে সমস্ত যানবাহনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে৷ গাড়ির চালক, সহকারী ও যাত্রী সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে৷
এছাড়া, সমস্ত সরকারি, স্বশাসিত, সরকারের অধীনস্ত এবং বেসরকারি অফিসগুলি স্বাভাবিক নিয়মে এবং উপস্থিতিতে কাজ করবে৷ তবে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকবে৷ অফিসে নিয়মিতভাবে স্যানিটাইজেশন করতে হবে৷ অফিসের প্রবেশ ও নির্গমন পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে৷ যেসব অফিসে নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা রয়েছে তারা মাস্ক ছাড়া কাউকে অফিসে প্রবেশ করতে দেবে না৷ বাড়তি ভিড় এড়ানাের জন্য বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিরা আগাম সময় চেয়ে নির্দিষ্ট সময়ে দেখা করতে পারেন৷
ফোন, হেল্পলাইন, কন্েন্টাল রুম, অনলাইন গ্রিভেন্স সেল ইত্যাদি বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে৷ যদি সরকারি বৈঠক অতি প্রয়ােজনীয় হয়ে পড়ে তাহলে সেসব বৈঠকে ২০ জনের বেশি লোক অংশগ্রহণ করতে পারবে না৷ তবে, বিদ্যালয়, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার ইত্যাদির জন্য শিক্ষা দফতর আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে৷
এদিকে, ভারত সরকারের নির্দেশিকা মেনে ১৫ অক্টোবর থেকে ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে সিনেমা হল, থিয়েটার, মাল্টিপ্লেক্স গুলো চালু করা যাবে৷এমনকি, সুইমিং পুল, প্রদর্শনী, বিনোদন পার্ক ও এ জাতীয় স্থানগুলিও ১৫ অক্টোবর থেকে খুলতে পারবে৷ পাশাপাশি, সীমিত অংশগ্রহণকারী নিয়ে কিছু অনুমােদিত কার্যকলাপ ছাড়া অডিটোরিয়াম, অ্যাসেম্বলি হল ও এ জাতীয় স্থান বন্ধ থাকবে৷ সমস্ত সামাজিক, রাজনৈতিক, খেলাধুলা (বিনোদন) শিক্ষাগত অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য সমাবেশও বন্ধ থাকবে৷
তবে, ধর্মীয় ও সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান একমাত্র উপযুক্ত নির্দেশিকা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে করা যাবে৷অবশ্য, অপ্রয়ােজনীয় সমাবেশ এড়িয়ে চলা দরকার৷ দাহকার্যে ২০ জনের বেশি এবং বিবাহ অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি লােকের সমাবেশের অনুমতি নেই৷ স্বাস্থ্য ও রক্তদান শিবির কিংবা কোনও দান ও কল্যাণমূলক কাজে ২০ জনের বেশি লােকের জমায়েত হতে পারবে না৷
সারা ত্রিপুরায় ১ অক্টোবর থেকে রাতে কোনও কারফিউ থাকবে না৷ তবে দুর্গাপূজার সময় রাত্রিবেলা কিছু বিধিনিষেধ থাকবে যার জন্য আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে৷ তাছাড়া, সাধারণ নির্দেশিকা হিসেবে বলা হয়েছে সমস্ত অফিস, পাবলিক প্লেসে থার্মাল স্ক্যানিং, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকবে৷ এসব জায়গাতে নিয়মিত স্যানিটাইজার করা হবে এবং পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্র ও ভ্রমণকালে মুখাবরণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক৷
জরুরি প্রয়ােজন কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দরকার ছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, অন্যান্য রােগের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তি, দুর্বল ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা ও ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ আরও জানানাে হয়েছে যে, মাস্ক না পরিধান করার অপরাধে প্রথমবার ২০০ টাকা এবং পরবর্তী বারগুলিতে ৪০০ টাকা করে জরিমানা হবে৷ তেমনি সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা এবং হােম কোয়ারেন্টিনের নিয়ম উল্লঙ্ঘনের জন্য ১,০০০ টাকা জরিমানা হবে৷