শর্ত মেনে ১৫ অক্টোবরের পর খোলা যেতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রেক্ষাগৃহ

স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর।। আগামী ১৫ অক্টোবরের পর থেকে খোলা যেতে পারে সুকল-কলেজ৷ তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি৷ ওই দিন থেকেই সিনেমা হল এবং প্রেক্ষাগৃহগুলিতে শর্তসাপেক্ষে প্রদর্শনী শুরু করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে৷ এ ছাড়াও আনলক ৫ পর্বের জন্য জারি করা নির্দেশিকায় আরও কিছু ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আজ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে৷ কন্টেনমেন্ট এলাকার বাইরে বিভিন্ন কাজকর্ম করার সুযোগ এই নির্দেশিকায় রয়েছে৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ১ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন কাজকর্ম আবারও চালু করা যেতে পারে৷ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, কেন্দ্রীয় নানা মন্ত্রক ও দপ্তরগুলির সঙ্গে পরামর্শ করার পর আজ নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে৷

নতুন নির্দেশিকার বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলি হল : কন্টেনমেন্ট এলাকার বাইরে ১৫ অক্টোবর থেকে যেসব কাজকর্ম করার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়েছে : সিনেমা / থিয়েটার / মাল্টিপ্লেক্স খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ তবে, এক্ষেত্রে দর্শকদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন বরাদ্দ করা হয়েছে৷ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি অনুযায়ী এগুলি চালাতে হবে৷ ব্যবসায়িক প্রদর্শনীগুলি খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রকের সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি মেনে চলতে হবে৷ ক্রীড়াবিদদের প্রশিক্ষণের জন্য স্যুইমিং পুল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ এক্ষেত্রে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি মেনে চলতে হবে৷ বিনোদন পার্ক এবং এই জাতীয় অন্য জায়গাগুলিকে খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি মেনে চলতে হবে৷

সুকল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কোচিং কেন্দ্রগুলি খোলার বিষয় :সুকল ও কোচিং সেন্টার আবারও খোলার বিষয়ে রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ তারা পর্যায়ক্রমে ১৫ অক্টোবরের পরএ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে৷ সংশ্লিষ্ট সুকল এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে৷ অনলাইনে বা দূরশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের বিষয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে৷ সুকলগুলি যখন অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে এবং কোন কোনও ছাত্রছাত্রী শারীরিকভাবে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে অনলাইনে ক্লাস করতে উৎসাহী হচ্ছে, তাদের তখন অনলাইনে ক্লাসের সুযোগ দিতে হবে৷ যে সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা সুকল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করতে যাবে, তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে যেতে হবে৷ উপস্থিতির বিষয়টিকে জোর দেওয়া চলবে না এবং পুরো বিষয়টি অভিভাবক / অভিভাবিকাদের সম্মতিক্রমে করতে হবে৷

রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি সুকল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি বিবেচনা করার জন্য নিজ নিজ সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি তৈরি করবে৷ এই পদ্ধতি তৈরির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের সুকলশিক্ষা ও সাক্ষরতা দপ্তরের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সেটি তৈরি করতে হবে৷ সুকলগুলিকে খোলার অনুমতি দিতে হবে তবে, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির শিক্ষা দপ্তরের সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি সুকল্গুলিকে মেনে চলতে হবে৷ শিক্ষা মন্ত্রকের উচ্চশিক্ষা দপ্তর কলেজ এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খোলার বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে৷ এক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷

অনলাইন এবং দূরশিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠদানে উৎসাহ দেওয়া হবে৷ তবে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গবেষক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাগারের কাজকর্মগুলিকে ১৫ অক্টোবরের পর থেকে করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে৷ কেন্দ্রের সাহায্যপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি মনে করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গবেষক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষাগার ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে, তাহলেই তাঁরা পরীক্ষাগার ব্যবহার করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করতে পারবেন৷ রাজ্যস্তরীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের গবেষক এবং স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে৷
জমায়েত করার ক্ষেত্রে নিয়মাবলী : সামাজিক / শিক্ষা সংক্রান্ত / ক্রীড়া / বিনোদন / সংসৃকতি / ধর্মীয় / রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য জমায়েতগুলির ক্ষেত্রে কন্টেনমেন্ট এলাকার বাইরে সবর্োচ্চ ১০০ জনকে নিয়ে করার অনুমতি দেওয়া ইতিমধ্যেই হয়েছে৷

বর্তমানে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে এই ধরনের কর্মসূচির ক্ষেত্রে কন্টেনমেন্ট এলাকার বাইরে ১৫ অক্টোবরের পর ১০০ জনের বেশি লোককে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে৷ তবে, এক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলি মেনে চলতে হবে – বদ্ধ জায়গায় যে কোনও হলে সবর্োচ্চ ৫০ শতাংশ মানুষকে ঢোকার অনুমতি দিতে হবে৷ এই ক্ষেত্রে সবর্োচ্চ ২০০ জন ঢুকতে পারবেন৷ তবে সকলকে ফেসমাস্ক পড়তে হবে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে, তাপমাত্রা মাপতে হবে এবং হাত ধোয়া অথবা স্যানিটাইজার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করতে হবে৷

খোলা স্থানের জায়গায় আয়তন অনুসারে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ফেসমাস্ক বাধ্যতামূলকভাবে পড়ে এবং তাপমাত্রা মেপে ও হাত ধোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া যাবে৷ কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ যেন বিস্তার লাভ না করে তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য / কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এ ধরনের জমায়েতের ক্ষেত্রে বিস্তারিতভাবে সাধারণ পরিচালন পদ্ধতির বিজ্ঞপ্তি জারি করবে৷ এই বিজ্ঞপ্তি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে৷

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?