গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু পার্ক কর্মীর, পরিবার নিয়ে সমস্যায় মৃতের স্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, কুমারঘাট , ২৮ সেপ্টেম্বর।। কুমারঘাট ইকোপার্কের গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক পার্ক কর্মীর৷ পরিবার নিয়ে সমস্যায় মৃতের স্ত্রী৷ সরকারি সবধরনের সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত মৃতের পরিবার৷ ঘটনার বিবরণে জানা যায় ২০১৯ সালের পয়লা অগাস্ট কুমারঘাট ডিভিশন ফরেস্ট সেন্ট্রাল নার্সারি জেএফএমসি এর দ্বারা নিযুক্ত হন কুমারঘাট মহকুমার উত্তর কুমারঘাট এলাকার প্রসন্ন মালাকার নামের এক ব্যক্তি৷ কুমারঘাট ইকো পার্কে উনার ডিউটি ছিলো৷প্রায় সাত মাস ডিউটি ঠিকঠাক ভাবেই চলছিলো৷

চলতি বছরের ১৯ মার্চ জেএফএমসি কমিটির অন্য সদস্যরা পার্কে এসে পার্কে থাকা গাছের উপর পাখির খাচা লাগানোর জন্য নির্দেশ দেন প্রসন্ন মালাকার এবং অন্য আরেকজনকে৷যথারিতি কমিটির নির্দেশে খাচা লাগানোর জন্য গাছে উঠে প্রসন্ন মালাকার নামের ঐ ব্যাক্তি৷ দু-একটি খাচা লাগানোর পর আচমকা প্রসন্ন মালাকার পা পিচলে গাছ থেকে নিচে পড়ে যান এবং গুরুতরভাবে আহত হন৷ সাথে সাথে পাশে থাকা লোকজন তাকে কুমারঘাট হাসপাতালে নিয়ে যায়,রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কৈলাশহর জেলা হাসপাতালে রেফার করেন,কিন্তু অভিযোগ কমিটিতে থাকা লোকজন উনাকে নিজেদের মর্জিমাফিক ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান৷পরে ধর্মনগর থেকে ঐ ব্যাক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলং এর নিগ্রিমসে নিয়ে যাবার পরামর্শ দিলে কমিটিতে থাকা লোকজন এবং বনদপ্তরের কর্মীরা তাদের গা জোয়ারীতে ঐ ব্যাক্তিকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন৷

এতে ঐ ব্যাক্তির স্ত্রী তাদের কাছে করজোরে আপত্তি জানালেও তারা মহিলার কথায় কর্নপাত না করে ঊহত ব্যাক্তিকে সরকারীভাবে চিকিৎসার জন্য জিবিতে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেনয়ঐ মহিলা৷অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২শে মার্চ জিবিতে মৃত্যু হয় প্রসন্ন মালাকারের৷মৃতের স্ত্রীর অভিযোগ জিবিতে নিয়ে যাবার কারনেই মৃত্যু হয়েছে উনার স্বামীর৷বর্তমানে আর্থিক সংকটে থাকা হতদরীদ্র মহিলা স্বামীকে হারিয়ে সম্পূর্নরূপে ভেঙে পড়েছেন৷

উনার নবম শ্রেনীতে পাঠরতা একটি মেয়েও রয়েছে৷বর্তমানে তার লেখাপড়ার খরচ জোগানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে উনার পক্ষে বলে জানিয়েছেন তিনি৷এই অবস্থায় ঐ পরিবারকে প্রথমে জেএফএমসি কমিটির পক্ষ থেকে রোগীর চিকিৎসা বাবদ মাত্র ২৯ হাজার টাকা দেওয়া হয় যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে ছিটেফোটাও হয়নি৷ কমিটির দেওয়া অর্থ নিমিশেই ফুরিয়ে যায় প্রসন্ন মালাকারের চিকিৎসায়৷পরে তার পরিবারের লোকেরা সাহায্য সহযোগিতা করে আরো ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ব্যায় করেন তার চিকিৎসা বাবদ৷ কিন্তু তার পরও শেষ রক্ষা হয়নি৷তিনি আরো জানান বর্তমানে পরিবারের রোজগার করার মতো কেউই নেই৷

তবুও এখনো পর্যন্ত জেএফএমসি কমিটির কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর খবর পর্যন্ত নেননি বলে অভিযোগ করেন মৃত প্রসন্ন মালাকারের স্ত্রী৷ এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় শাসক দলীয় পঞ্চায়েতের প্রধান মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুড়েও মেলেনি সহায়তা৷অসহায় পরিবারটির দিকে তাকানোর সময় নেই এলাকার বিধায়ক ভগবানেরও৷ সামনেই এডিসি ভোট,ভোট বৈতরনী পার হবার জন্য ভোটারদের প্রভাবিত করতে হয়তো তিনি অসহায় পরিবারের দিকে নজর দেবার চাইতে নিজের ভোট বাস্কের দিকেই নজর দেবার বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন৷

 

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?