স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৮ সেপ্টেম্বর।। ত্রিপুরার চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের একাংশ সোমবার চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের বাসভবন ঘেরাও করেছেন৷ ত্রিপুরা সরকার শূন্যপদে তাঁদের নিয়োগের বন্দোবস্ত করছে৷ কিন্তু বিরোধীরা চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মন-মানসিকতা বিষিয়ে তুলছেন৷
তাতে ক্ষতি চাকরিচ্যুতদের হবে, দাবি করেন অল ত্রিপুরা ১০৩২৩ ভিক্টিমাইজড টিচার্স সংগঠনের সভাপতি প্রদীপ বণিক৷ আজ দীর্ঘক্ষণ পর পুলিশের হস্তক্ষেপে বিরোধী দলনেতার বাসভবন ঘেরাওমুক্ত হয়৷সম্প্রতি স্থায়ী সমাধানের দাবিতে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের একাংশ মহাকরণ অভিযান করেছিলেন৷ তাঁরা দিনভর মহাকরণের মূল প্রবেশদ্বার অবরুদ্ধ করে রাখেন৷
শিক্ষকদের ওই আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং জল কামান ছুঁড়তে হয়েছিল৷ তাতে কয়েকজন আহত হয়েন৷ আজ ওই আন্দোলনের পাল্টা দিতে ময়দানে নেমেছে অপর একটি সংগঠন৷প্রদীপ বণিকের কথায়, ২৫ বছরের বাম জমানায় স্বৈরাচারী শাসনের উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত ১০৩২৩৷ আদালতের রায়ে গত ৩১ মার্চ আমাদের চাকরি বাতিল হয়েছে৷ তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল না৷
তাই, দীর্ঘ সময় ঝুলিয়ে রেখে শিক্ষার অধিকার আইন দেশে লাগু হওয়ার পর শিক্ষকতার চাকরি ছেড়েছে৷ তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, পূর্বতন সরকারের ভুল নীতির কারণে ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছে৷ তাঁর দাবি, গৌহাটি হাইকোর্টের রায় মেনে কয়েকজন আবেদনকারীকে চাকরি দিলেই আজ আমাদের চাকরি বাতিল হতো না৷ তখন বামফ্রন্ট সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাব আজ আমাদের পথে বসিয়েছে৷
প্রদীপ বণিক বলেন, পূর্বতন সরকারের ভুল বর্তমান সরকার সংশোধন করতে চাইছে৷ তাই আদালতের অনুমতি নিয়ে বর্তমান সরকার চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের শূন্যপদে নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে৷ তাঁর কথায়, চাকরির পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে আউটসোর্চিঙের মাধ্যমে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে ত্রিপুরা সরকার৷ কিন্তু এই উদ্যোগ সংকীর্ণ রাজনীতির স্বার্থে ভেস্তে দিতে চাইছেন বিরোধীরা৷ তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার চাইছেন, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের স্থায়ী সমাধান না হোক৷
তাই, সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একাংশ চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের আন্দোলনে নামিয়েছেন৷ তাঁরাও মানিক সরকারদের ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হয়েছেন৷ তাই আজ বিরোধী দলনেতার সরকারি বাসভবন ঘেরাও করেছি আমরা৷ তাঁর মুখোশ খুলে দেওয়ার জন্যই আজ আমরা রাস্তায় নেমেছি, বলেন তিনি৷