স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২২ সেপ্টেম্বর।। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ অনলাইনে ত্রিপুরার ২২টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজে ভরতি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ মহাবিদ্যালয়ে ভরতির সুযোগ থেকে ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হবেন না৷ আজ মঙ্গলবার আগরতলার শিক্ষা ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উচ্চশিক্ষা অধিকর্তা সাজু ওয়াহিদ এ দৃঢ়তার সাথে এ-কথা জানিয়েছেন৷
ভরতি প্রক্রিয়া সম্পর্কে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ত্রিপুরায় সাধারণ ডিগ্রি কলেজগুলিতে মোট আবেদনকারীর তুলনায় পর্যাপ্ত আসন রয়েছে৷ ফলে ত্রিপুরায় ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই৷এদিন উচ্চশিক্ষা অধিকর্তা জানান, ত্রিপুরার মোট ২২টি ডিগ্রি কলেজে বিভিন্ন বিভাগে ভরতির জন্য প্রায় ২৩ হাজার ছাত্রছাত্রী অনলাইন আবেদন করেছেন৷ মেধা তালিকায় প্রাথমিকভাবে ১৩ হাজার ছাত্রছাত্রীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে৷ প্রথম পর্বে মেধা তালিকায় স্থান প্রাপ্ত আবেদনকারীর সব ধরনের নথি যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে৷ ভরতি প্রক্রিয়া আগামী ২৫ থেকে ৩০ সেপ্ঢেম্বর পর্যন্ত চলবে৷
অবশিষ্ট ১০ হাজার ছাত্রছাত্রী যাঁরা প্রাথমিক মেধা তালিকায় স্থান পাননি তাঁরা পুনরায় দ্বিতীয় পর্যায়ে বিষয় পরিবর্তন করে আবেদনের সুযোগ পাবেন৷তাঁর কথায়, তুলনামূলক কম নম্বর পেয়েও মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া নিয়ে কিছু অভিযোগ দফতরে এসেছে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু কিছু বিষয়ে আবেদনপত্র জমা পড়েছে বেশি৷ পাশাপাশি কিছু কিছু বিষয়ে আসন সংখ্যার তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কম হওয়ায় তুলনামূলক কম নম্বর পেয়েও ওই সমস্ত বিষয়ে আবেদনকারী ছাত্রছাত্রীরা মেধা তালিকায় স্থান পেয়ে গেছেন৷
এ নিয়ে কোনও সংশয় থাকা উচিত নয়৷ তিনি জোর গলায় বলেন, ভরতি প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথেই করা হচ্ছে৷ ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে৷ একই নম্বর পাওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার থাকছে তাঁদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বছরকে ভিত্তি করে৷ এক্ষেত্রে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং এমবিবি বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করা হচ্ছে৷
উচ্চশিক্ষা অধিকর্তা আরও জানান, যে সব ছাত্রছাত্রী প্রথমবার ভরতির জন্য রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন অথচ মেধা তালিকায় স্থান পাননি তাঁদের দ্বিতীয়বার রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন হবে না৷ প্রথম রেজিস্ট্রেশনে লগ ইন করেই সম্ভাব্য কলেজের নাম, বিষয়বস্তু ইত্যাদি পরিবর্তন করা যাবে৷ প্রত্যেক মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অধ্যক্ষার নেতৃত্বে ভরতি প্রক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে৷ শুধু তাই নয়, বিভিন্ন কারণে যে সকল ছাত্রছাত্রী প্রথম পর্যায়ে আবেদন করতে পারেননি তাঁরা দ্বিতীয় পর্যায়ে সুযোগ পাবেন৷
তাঁর কথায়, ভরতি প্রক্রিয়া অনলাইনে হলেও সব কলেজেই সহায়তা কেন্দ্র থাকছে৷ যে কোনও সংশয় বা কোনও বিষয়ে কিছু জানার থাকলে ছাত্রছাত্রীরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন৷ তাছাড়া উচ্চশিক্ষা দফতরের একটি টোল ফ্রি সহায়তা নম্বর রয়েছে৷ ১৮০০১২৩৫৮৮৬ নম্বরে ফোন করে যে কোনও ধরনের ভরতি সংক্রান্ত বিষয় জানার ব্যবস্থা রয়েছে৷ হোয়াটস্যাপ নম্বর ৮৭৯৪৪৩৩৬৭৬-এ ম্যাসেজ করেও সব ধরনের তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে, বলেন তিনি৷