স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২২ সেপ্টেম্বর।। চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের প্রশ্ণে ত্রিপুরা সরকার উদ্যোগ নিয়েছে৷ মন্ত্রিসভার অনুমোদনে অভিন্ন নিয়োগ নীতি তৈরি করা হবে৷ ওই নিয়োগ নীতির মাধ্যমে ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন দফতরে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি শূন্যপদে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের নিয়োগ করা হবে৷ তবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা ওই সুযোগ নিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে৷
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ-কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷আদালতের রায়ে ত্রিপুরায় ১০৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়েছিল৷ ত্রিপুরা হাইকোর্ট চাকরি বাতিলের রায় দিয়েছিল৷ তদানীন্তন সরকার ওই রায়-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল৷ কিন্তু সুপ্রিম কোর্টও ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে৷ তবে রাজ্য সরকারের আবেদনে কয়েক দফায় তাঁদের অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগে অনুমতি দিয়েছে৷গত ৩১ মার্চ চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগের মেয়াদ সমাপ্ত হয়ে গেছে৷
কিন্তু তাঁরা চাকরিতে বহাল থাকার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷ ত্রিপুরা সরকারও তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশ্ণে সবর্োচ্চ আদালতে আপিল করেছিল৷ সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত ঘোষণা করে এবং তাতে সমস্ত আবেদন খারিজ করে দেয়৷ তবে তাদের ৩১ মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত সমস্ত নিয়ম মেনে শিক্ষক পদে নিয়োগে ছাড়পত্র দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ পাশাপাশি, ত্রিপুরা সরকারের প্রস্তাব মেনে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদেও নিয়োগে অনুমতি দিয়েছে৷ কিন্তু, সেক্ষেত্রেও সমস্ত নিয়ম মেনেই নিয়োগ করতে হবে৷
শুধু মাত্র বয়সে ছাড় দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে ত্রিপুরা সরকার৷ ৩১ মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত বয়সে ছাড় পাবেন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা৷আজ শিক্ষামন্ত্রী জানান, গতকাল মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের কর্মসংস্থানের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে৷ সমস্ত নিয়ম মেনে তাঁদের নিয়োগে উদ্যোগ নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে৷ তিনি বলেন, ১,২৮০টি এলডিসি এবং ৯,২৬৮টি মাল্টিপারপাস স্টাফ শূন্যপদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ তবে একত্রে নয়, পর্যায়ক্রমে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে৷
তাঁর কথায়, ৭৬৪ জন পিজিটি, ৪,৩৮০ জন জিটি এবং ৪,৫৪২ জন ইউজিটি মিলিয়ে মোট ৯,৬৮৬ জন চাকরিচ্যুত শিক্ষক রয়েছেন৷ তাঁদের ওই সব শূন্যপদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ মন্ত্রিসভা গতকাল ওই অনুমোদন দিয়েছে, বলেন তিনি৷শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ধাপে ধাপে নিয়োগ করা হবে৷ এক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ১,০০০ জনের নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে৷ তাতে ২৪ কোটি টাকার প্রয়োজন রয়েছে৷ তিনি বলেন, স্থায়ী পদে ওই নিয়োগ করা হবে৷ কিন্তু, শুরুতে ফিক্সড-পে হিসেবে নিযুক্তি মিলবে৷
তাঁর কথায়, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সর্বজনীন নিয়োগ নীতি তৈরি করবে ত্রিপুরা সরকার৷ তবে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা ওই সুযোগ নিতে ব্যর্থ হলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে৷ আইন ও অর্থ দফতর এমনই সুপারিশ করেছে, জানিয়েছেন তিনি৷