স্টাফ রিপোর্টার, অমরপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর।। কৃষিমন্ত্রী কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারলে দেশের প্রকৃত উন্নতি হবে। বর্তমান সরকার রাজ্যের কৃষকদের যােগ্য সম্মান দিচ্ছে। তাদের বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জাম প্রদান করা সহ নানা ধরণের সহায়তা করছে। বুধবার চেলাগাঙ্গের চাকলাহাম দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় মাঠে সুসংহত জলবিভাজিকা প্রকল্পের অঙ্গ হিসাবে কৃষকদের মধ্যে কৃষি সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় একথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে হলে শুধুমাত্র উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, উৎপাদন খরচও কমাতে হবে। তিনি বলেন, কৃষকদের বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদের উপর নজর দিতে হবে। সরকার নতুন নতুন অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের মধ্যে ভর্তুকীতে প্রদান করছে যাতে কৃষকরা খুব কম সময়ে তাদের কৃষিজ ফসলের উৎপাদন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের ৪২% মানুষ প্রান্তিক কৃষক। তাদের কথা মাথায় রেখে কৃষি দপ্তর ৩৬টি কৃষি মহকুমায় কৃষকদের সাহায্যার্থে কৃষক বন্ধু কেন্দ্র স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই কিষণ সম্মান নিধি, ফসল বিমা যােজনা ইত্যাদি চালু করেছেন।
তিনি বলেন, শুরুতে কিষণ সম্মান নিধি প্রকল্পে স্থায়ী জমি যাদের আছে সে সমস্ত কৃষকদের সুবিধা প্রদান করা হতাে, কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বর্তমানে পাট্টাপ্রাপক চাষী ও বর্গাচাষীরাও কিষণ সম্মান নিধি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। রাজ্যে বর্তমানে ৪ লক্ষ ৭২ হাজার কৃষককে পিএম কিষাণ যােজনায় ২৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও কৃষকদের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যােজনা চালু রয়েছে রাজ্যে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুধুমাত্র কৃষকদের উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দেয়নি, ফসলের বাজারজাতকরণের জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে। এখন বহিঃরাজ্যে এবং বিদেশে রাজ্যের উৎপাদিত আনারস রপ্তানি হচ্ছে।
এই সুযােগ আগে কখনও রাজ্যের কৃষকগণ পাননি। এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ধানের সঠিক মূল্য পাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ন্যূনতম সহায়কমূল্যে বর্তমানে প্রতিকেজি ১৮.১৫ দরে ধান বিক্রয় করা হচ্ছে। যারফলে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কৃষি দপ্তরের আধিকারিক, বিজ্ঞানীরা কৃষকদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করার জন্য মাঠে যাচ্ছেন। কিভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি আয় দ্বিগুণ করা যায় তার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, রাজ্যের ৫০ হাজার হেক্টর এলাকায় ধানের জায়গায় ভুট্টা ও মাসকালাই এর চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ৫০ হাজার এলাকার মধ্যে ২৮ হাজার হেক্টর এলাকা ভুট্টা চাষের ফলে কৃষকরা ধান চাষ থেকে আড়াইগুণ বেশি লাভবান হবেন। বাকি ২২ হাজার হেক্টর এলাকায় মাসকালাই চাষ করা হবে। যারফলে কৃষকরা অধিক লাভের মুখ দেখতে পারবেন এবং তা খুব কম সময়ে উৎপাদন করা যাবে এবং বেশি জলসেচেরও প্রয়ােজন হবে না।
তিনি বলেন, রাজ্যে সারের কোন অভাব নেই। আগামী দুই মাস পর্যন্ত কৃষকদের সুবিধার্থে সার মজুত রাখা আছে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গােমতী জেলার কৃষি উপঅধিকর্তা গৌতম মজুমদার, স্টেট লেভেল নােডাল এজেন্সির চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার নমজিৎ চাকমা, করবুক মহকুমার মহকুমা শাসক এল ডার্লং সমাজসেবী জওহর সাহা ও অতীন্দ্র রিয়াং প্রমুখ।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবর্গগণ কৃষকদের হাতে ৬টি পাওয়ারটিলার, ৩টি মিনি পাওয়ার উইডার, ৩টি পাওয়ার প্যাডি থ্রেশার, ২২টি পাম্পসেট ও ১০০টি স্পেয়ার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন করবুক ব্লক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান অসীম ত্রিপুরা। কৃষিমন্ত্রী এদিন নিজাচন্দ্র পাড়া এবং সগরাম পাড়ায় জলসেচের উৎসগুলি পরিদর্শন করেন।