অনলাইন ডেস্ক, ১২ সেপ্টেম্বর।।উদ্বেগ বাড়িয়ে গোটা বিশ্বে করোনায় মৃত্যু হার বাড়ল। পাশাপাশি কমল সুস্থতার সংখ্যা। শেষ ২৪ ঘন্টায় গোটা বিশ্বে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬০১৭ জনের। এর ফলে বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৭০৬। শনিবার সকাল পর্যন্ত গোটা বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৮৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ৭৪৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার ১৮৪ জন।আক্রান্ত ও মৃতের নিরিখে যথারীতি বিশ্বে প্রথম স্থানে রয়েছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দেশে শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লক্ষ সাদা ৯৭ হাজার ৪২১ জন। মৃতের নিরিখে এরপরই রয়েছে ব্রাজিল। সাম্বার দেশে এখনও পর্যন্ত করোনা ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭৫ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। পিছিয়ে নেই দক্ষিণ আমেরিকার আর এক দেশ মেক্সিকো। সেখানে ৭০ হাজার ১৮৯ জন করোনায় মারা গিয়েছেন। সংক্রমণের নিরিখে অবশ্য এই মুহূর্তে আমেরিকার পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত।
দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপের একাধিক দেশে এখনো পর্যন্ত বেলাগাম গতিতে এগিয়ে চলেছে করোনা। এরই মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় করোনা টিকার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে কোনও আশার আলো দেখাতে পারেনি। তাদের তৈরি টিকার তৃতীয় পর্যায়ে বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তাই করোনার টিকা শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে এমন কোনও খবর নেই। যা মানুষকে নতুন করে আরও উদ্বেগে ফেলেছে।অক্সফোর্ডের ঘটনার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, মানুষের এবার বোঝা উচিত টিকা আবিষ্কার নিয়ে অযথা তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়।
এটা মানুষের জীবন-মরণের ব্যাপার। হু-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেছেন, এই ঘটনা থেকে সকলেরই বোঝা উচিত যে, টিকার গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের বিভিন্ন ধাপেও নানা ওঠাপড়া থাকে। তাই আমাদের সব রকম পরিস্থিতির জন্যই তৈরি থাকতে হবে। অযথা তাড়াহুড়ো করে কোনও ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। কারণ এটা মানুষের জীবন বাঁচানোর বিষয়। টিকা আবিষ্কার নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে না। তাই ধীরে-সুস্থে সমস্ত দিক বিবেচনা করে এই টিকা বাজারে নিয়ে আসা উচিত।
সম্প্রতি রাশিয়া তাদের তৈরি ভ্যাকসিন স্পুটনিক-৫ মানুষের দেহে প্রয়োগ করেছে। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ভ্যাকসিন খুব শীঘ্রই আমেরিকায় মানুষের উপর প্রয়োগ করা হবে। কিন্তু অক্সফোর্ডের এই ঘটনার পর সেই পরিস্থিতি আর নেই। অনেকেই তাই ট্রাম্পের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রথমদিকে যদি সচেতন হতেন তবে এভাবে দেশে করোনা ছড়াত না। এত মানুষের প্রাণ অকালে ঝরে যেত না।