অনলাইন ডেস্ক, ৭ সেপ্টেম্বর ।। জি-২০ দেশগুলি সকলের জন্য সঙ্কটের সময়েও গুণগতমানের শিক্ষা এবং জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখতে চায়। এ কারণে সদস্য দেশগুলি তিনটি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।এসব দেশের শিক্ষামন্ত্রীরা শিক্ষা ক্ষেত্রে একযোগে কাজ করার এবং শ্রেষ্ঠ পন্থা-পদ্ধতিগুলি ভাগ করে নেবার ব্যাপারে পারস্পরিক অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে, যাতে সদস্য দেশগুলি পারে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল ‘নিশাঙ্ক’ বলেন, সদস্য দেশগুলি তিনটি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত সরকার এই তিনটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে। ভারতের নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতিতেও এই তিনটি বিষয়ের প্রতি অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২০’র জাতীয় শিক্ষা নীতিতে দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রের চালচিত্রে আমূল পরিবর্তন আনার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহামারীজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন এই শিক্ষা নীতি সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটাবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ভারত জি-২০ সদস্য দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রাক্-শৈশব শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জি-২০ শিক্ষা মন্ত্রীদের এই সাম্প্রতিক বৈঠকে একটি ইস্তাহার গ্রহণ করা হয়। ইস্তাহারে সব শিশুর জন্য গুণগত মানের সমান শিক্ষার সুযোগ ও প্রাপ্য অধিকারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর শিশুদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, সমাজে সচেতনতা নিবিড় করার পাশাপাশি, শিশুদের পরিবারগুলিকেও শিক্ষার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে, যাতে প্রতিটি শিশুর শৈশব থেকে পরবর্তী শিক্ষা স্তরগুলিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।
বৈঠকে গৃহীত ইস্তাহারে শিক্ষা ব্যবস্থায় সেরা পন্থা-পদ্ধতিগুলি বিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকীকরণে উৎসাহিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। সৌদি আরব ২০২০’র জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির লিডার সামিট আয়োজন করছে। জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে – আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানী, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি। ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে সদস্য রাষ্ট্রগুলি সঙ্কটের সময়েও শিক্ষা অব্যাহত রাখা, প্রাক্-শৈশব শিক্ষা এবং শিক্ষায় আন্তর্জাতিকীকরণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে।