স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২৬ আগস্ট।। কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার সহ রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে যে সমস্ত আবাসিক রয়েছেন তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করছে রাজ্য সরকার৷ রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে এই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে৷ এ সংক্রান্ত একটি সরকারি নোটিফিকেশনও জারি করা হয়েছে৷ আজ সচিবালয়ের ২নং সভাকক্ষে আয়োজিত স্বরাষ্ট্র (কারা) দপ্তরের পর্যালোচনা বৈঠকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার সংশোধনাগারের আবাসিকদের সুু-স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে৷
পাশাপাশি তিনি সংশোধনাগারের আবাসিকদের নিয়মিত ব্যবধানে কাউন্সিলিং করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন যাতে সংশোধনাগারে তাদের আচার আচরণ যথাযথ থাকে৷ এজন্য জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের সহযোগিতা নেওয়ার জন্য তিনি পরামর্শ দেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কোভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে সংশোধনাগারে নেওয়ার পূর্বে আবাসিকদের কোভিড-১৯ টেস্ট করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন৷ যাতে আগে থেকে কোভিড-১৯ পজিটিভ থাকলে তার থেকে সংশোধনাগারে সংক্রমণ না ছড়ায়৷ সংশোধনাগার নির্মাণ করার জন্য পূর্বে চিহ্ণিত করা জমি বর্তমানেও অব্যবহৃত থাকলে তা কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়েও চিন্তা ভাবনা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেন৷
মুখ্যমন্ত্রী সংশোধনাগারের বিদেশী আবাসিকদের সাজা শেষে তাদের নিজ দেশে পাঠানোর পূর্বে ডিটেনশন সেন্টারে রাখার ক্ষেত্রে সাবমের পুরোনো অব্যবহৃত সংশোধনাগারের বিল্ডিং-এ ডিটেনশন সেন্টার গড়ে তোলা যায় কিনা সে বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্য কারা দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেন৷ সংশোধনাগারের আবাসিকদের নিয়মিত খেলাধূলা, শরীর চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদির সাথে যুক্ত থাকার জন্য একটি রুটিন করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পর্যালোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র (কারা) দপ্তরের প্রধান সচিব বরুণ কুমার সাহু কারা দপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচিগুলি বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, বর্তমানে রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার ছাড়াও কৈলাসহর এবং উদয়পুরে জেলা সংশোধনাগার এবং ১০টি মহকুমায় উপ-সংশোধনাগার রয়েছে৷
এছাড়াও মহিলা সংশোধনাগারটি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের মধ্যেই রয়েছে৷ তিনি জানান, কৈলাসহর জেলা সংশোধনাগারে নতুন কমপ্লে’ গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলেছে৷ এছাড়াও ধর্মনগরে উপ-সংশোধনাগারের নির্মাণ কাজও অব্যাহত রয়েছে৷ দপ্তরের প্রধান সচিব রাজ্যের জেলাগুলিতে প্রযুক্তিগত বিভিন্ন সুুবিধার কথাও তুলে ধরেন৷ তিনি জানান, সংশোধনাগারগুলিতে কম্পিউটার রয়েছে৷ পাশাপাশি সিসি টিভি ক্যামেরাও অধিকাংশ সংশোধনাগারে রয়েছে৷ সংশোধনাগারে সাইকোলজিস্ট পাঠানোর বিষয়টিও সভায় আলোচনায় প্রাধান্য পায়৷ সংশোধনাগারে আবাসিকদের চিকিৎসার জন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ১০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল রয়েছে৷
ই-প্রিজন সিস্টেম সম্পর্কে অবহিত করে প্রধান সচিব জানান, বর্তমানে এন আই সি’র সহযোগিতায় অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কতজন আবাসিক সংশোধনাগারে রয়েছে তা খুব সহজেই জানা যাচ্ছে৷ সভায় প্রধান সচিব কোভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে সংশোধনাগারে যে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত উত্থাপন করেন৷
পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ সচিব প্রশান্ত কুমার গোয়েল, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব দীপা ডি. নায়ার, আই জি প্রিজন অদিতি মজমদার, স্বাস্থ্য অধিকর্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন৷