স্টাফ রিপোর্টার, আগরতলা, ২২ আগস্ট।। বাঙালির প্রধান উৎসব দুর্গোৎসব হচ্ছে ত্রিপুরায়। করোনা-র প্রকোপের মাঝেই খুবই ছোট আকারে দুর্গোৎসব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্লাব ফোরাম। তাতে, এক কাঠামোর মা দুর্গার মূর্তি এবং খোলা প্যান্ডেলে পূজা হবে বলে স্থির করেছে ফোরাম। অবশ্যই, মাস্ক পরিধান এবং বার বার স্যানিটাইজ করা সহ কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে।
আজ আগরতলা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফোরামের সদস্য প্রণব সরকার বলেন, আসন্ন দুর্গোৎসব নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। তাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, করোনা পরিস্থিতিতে দুর্গোৎসব পালিত হবে। তবে, পূজা হবে ছোট আকারে। তিনি বলেন, এক কাঠামোর ছোট দূর্গা মূর্তি এবং খোলা প্যান্ডেলে পূজার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় মাস্ক পরিধান এবং প্যান্ডেল স্যানিটাইজ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তেমনি, প্যান্ডেলের কাজে নিযুক্ত শ্রমিক এবং দর্শনার্থীদের জন্যও মাস্ক বাধ্যতামূলক থাকবে।
এদিন তিনি বলেন, এবছর বস্ত্রদান এবং অন্ন ভোগ বিতরণ করা হবে না। পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়, তাই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, প্যান্ডেল এবং মূর্তি তৈরিতে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে, বার বার প্যান্ডেল স্যানিটাইজ করা উদ্যোক্তাদের নিশ্চিত করতে হবে। প্রণববাবু বলেন, এবছর চাঁদা সংগ্রহে ক্লাব কতৃর্পক্ষ-কে সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি, করোনা যোদ্ধাদের দুর্গোৎসবের আগেই সম্বর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জন নিয়েও ফোরাম কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে, ত্রিপুরা সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে। প্রণব সরকারের কথায়, বিসর্জনে কড়াকড়ি আরোপ করার জন্য ত্রিপুরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবে ফোরাম। তাছাড়া, নিজ নিজ এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিসর্জনে ত্রিপুরা সরকারের পরামর্শ চাওয়া হবে। সরকারের দেখানো পথেই প্রতিমা বিসর্জন করা হবে
তিনি এদিন বলেন, আগরতলায় ১৮টি ক্লাব ওই ফোরামে যুক্ত হয়েছে। অন্য্ ক্লাবগুলিকেও ফোরামের সদস্য হওয়ার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সারা ত্রিপুরায় পূজা উদ্যোক্তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজন করার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দুর্গোৎসব-কে ঘিরে ফোরামের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।