নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ জুলাই।। ত্রিপুরায় শরিকি দ্বন্দ্বে বরফ গলেছে। বিজেপি-আইপিএফটি-র মধ্যে স্নায়ুর লড়াই থামাতে এবং সংঘাত মেটাতে বিজেপি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব অনেকটাই সফল হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। শৃঙ্খলা মেনে ত্রিপুরায় বিজেপি জোট ধর্ম পালন করলেও, সাম্প্রতিককালে শরিক দল আইপিএফটি-র কর্মী সমর্থক-রা উৎশৃঙ্খল হয়ে উঠেছিলেন। তাতে, জোটে কিছুটা ফাটল দেখা দিয়েছিল। আজ বিজেপি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাফ জানালেন, ত্রিপুরায় দুই শরিকের মধ্যে সামান্য সমস্যা ছিল। নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে তাঁরাই সমাধান করে নেবেন।এদিকে, আইপিএফটি সাধারণ সম্পাদক তথা জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া-র দাবি, জোট ভেঙে সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোন ইচ্ছাই নেই আমাদের। তবে, দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে এমন কিছু দাবি পূরণ হোক চাইছি আমরা। বিজেপি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব দুই দিনের ত্রিপুরা সফরে এসেছেন। তিনি আজ সকালে আইপিএফটি-র শীর্ষ নেতৃত্বদের সাথে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের নির্যাস তুলে ধরে রাম মাধব বলেন, বিজেপি-আইপিএফটি জোট বেঁধে ত্রিপুরায় সরকার পরিচালনা করছে। উভয় দল জনকল্যাণে একত্রে কাজ করছে। তাঁর দাবি, দুই দলের খুবই সামান্য সমস্যা ছিল। আজ আইপিএফটি নেতাদের সাথে সমস্ত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, মিলেমিশে একত্রিত হয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছি। উভয় শরিক দলের কর্মী-রা অনুশাসন মেনে চলবেন, সেই অনুরোধ রেখেছি। সাথে তিনি যোগ করেন, এডিসি নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পর দুই দল মিলে আসন বন্টন নিয়ে রফা করা হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেছি। এদিকে, আইপিএফটি সাধারণ সম্পাদক তথা জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া এদিনের বৈঠক সম্পর্কে কিছু বিষয়ে প্রতিবেদক-কে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিজেপি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কাছে মেমোরেন্ডাম জমা দিয়েছি। তাতে বিশেষ করে জনজাতি অংশের মানুষের আর্থ, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ভাষাগত উন্নয়নে উচ্চ পর্যায়ের মডালিটি কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার অনুরোধ জানিয়েছি। তাঁর কথায়, আমরা এখনো জোট সরকারে রয়েছি। জোটে বেঁধেই সরকার পরিচালনা করছি। তবে, এডিসি নির্বাচনে আসন বন্টন নিয়ে পরবর্তীতে বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বদের সাথে আলোচনা হবে বলে বৈঠকে স্থির হয়েছে।