নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ জুন।। অবশেষে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিলেন আইপিএস জয়দেব নায়েক। ইতিপূর্বে সরকারের কাছে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন রেখেছিলেন ১৯৯১ সালের আইপিএস জয়দেব নায়েক। তিনি রাজ্য অগ্নিনির্বাপণ দফতরের অধিকর্তা পদে দায়িত্বে ছিলেন। সেই আবেদনে শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিলমোহর পরে দপ্তর থেকে। নিজের আবেদন গ্রাহ্য হতেই অগ্নিনির্বাপণ দপ্তরের সদরদপ্তরে ছুটে যান নায়েক সাহেব। গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে থেকে সমস্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন অধঃস্থন আধিকারিক কে। জানিয়ে দেন রাতেই শেষ। পরদিন থেকে অর্থাৎ আজ থেকে আর দপ্তরে যাবেন না তিনি। ঘটনা জানাজানি হতেই বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। জয়দেব নায়েক চাকরি জীবনে নিজের বিলাসিতার জন্য বরাবরই বিতর্কে ছিলেন।এমনকি ২০১৬সালে উড়িষ্যাতে ডেপুটেশনে থাকাকালীন সময়ে আর্থিক নয়-ছয়ের জন্য মামলায় জড়িয়ে জেলে ছিলেন তিনি। ওই দুর্নীতি মামলায় তার প্রমোশন আটকে যায় ।তাই বর্তমান সময়ে রাজ্য পুলিশের একজন বরিষ্ঠ আইপিএস হয়েও তিনি মহানির্দেশক পদের দৌড়ে অনেক পিছিয়ে আছেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা থাকলেও সরকার বরিষ্ঠ তিন আইপিএস আধিকারিক এর সঙ্গে তাকেও মহানির্দেশক পদের তালিকা থেকে বাদ করে রেখেছে। এমনকি তাকে নানাভাবে অপমানিত এবং হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা হয়েছে। সম্প্রতি তাকে অপমানের জন্য পরিকল্পিতভাবে তার মাথার উপর বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল চাকরি জীবনে তার থেকে পাঁচ বছরের জুনিয়র এক টিসিএস আধিকারিক কে। পরের সংবাদ মাধ্যমে সমালোচনার জেরেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে সরকার। এখন চেষ্টা চলছে চাকরি জীবনে তার থেকে অনেক জুনিয়র আইপিএস কে পুলিশ মহাপরিদর্শকের পদে বসানোর।স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে অন্যদের মতোই ক্ষুব্দ এবং অপমানিত রয়েছেন জয়দেব নায়েক। সূত্রের খবর তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন জুনিয়ারের নিচে থেকে নির্দেশ মেনে তিনি চাকরি করা অত্যন্ত অপমানজনক। এভাবে চাকরি করার চেয়ে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া ভালো। যেমন কথা তেমনি কাজ। গত মাসে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছিলেন জয়দেব নায়ক। সেই আবেদন গ্রাহ্য হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি কত রাতে দপ্তর এর সমস্ত দায়িত্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করেছেন। জয়দেব নায়েকের এভাবে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে পুলিশ সহ রাজ্য প্রশাসন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।