নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ জুন।। সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন নিয়ে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সরব হলেন শাসক দলেরই এক বিধায়ক। কেন্দ্রীয় সরকার এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ রাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন না করতে কড়া বার্তা দিয়েছেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশন করলে চাকরি খোয়াতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী এই কড়া বার্তা প্রচার এর পরপরই শাসক দলের বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক পাল্টা বার্তা দিলেন। বিধায়ক অরুন চন্দ্র ভৌমিক রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যকে বিতর্কিত বলে আখ্যায়িত করেছেন। শাসক দলের বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক বলেন গত ২৩মার্চ থেকে লক ডাউন জনিত কারণে রাজ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতে পারছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীরা যদি প্রাইভেট পড়তে না পারে তাহলে সমস্যা আরো জটিল থেকে জটিলতর আকার ধারণ করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ছাত্র ছাত্রীরা স্কুলের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়বে নাকি বেকারদের কাছে পড়বে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ছাত্রের অভিভাবক বল অভিমত ব্যক্ত করেন বিধায়ক ভৌমিক। এ বিষয়ে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সঠিক নয় বলেও তিনি বারবার উল্লেখ করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত পরিস্থিতিতে লকডাউন চলতে থাকায় ছাত্ররা শিক্ষাঙ্গনে যেতে না পেরে যখন পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত সেই সময়ে প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে শিক্ষার সুযোগ না পেলে ছাত্রদের ভবিষ্যত কী হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক । উল্লেখ করা যেতে পারে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত থেকে প্রাইভেট টিউশন করার ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী রাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন না করার জন্য বলেছেন। শিক্ষামন্ত্রী করাবার তারপর শাসক দলের বিধায়ক অরুন চন্দ্র ভৌমিক এর পাল্টা বার্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিকের এই মন্তব্যকে ভালো চোখে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। এর জল বহুদূর পর্যন্ত গড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে। কেননা রাজ্য সরকারের কোন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা শাসকদলের বিধায়কের পক্ষে যথেষ্ট বেমানান এবং নীতি বিরোধী। স্বাভাবিক কারণেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা মন্তব্য করে বিধায়ক চন্দ্র ভৌমিক যে অবস্থান গ্রহণ করেছেন তা নিয়ে দল এবং সরকার শেষ পর্যন্ত কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রকৃতপক্ষে লকডাউন চলাকালে শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকায় ছাত্র ও অভিভাবকদের জন্য মায়াকান্না কাঁদতে গিয়ে বিধায়ক এ ধরনের মন্তব্য করেছেন বলে অনেকেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক এর পৃথক মতামত থাকতেই পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে এভাবে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করা কতটা সমুচিত তা নিয়েও নানা মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে শাসক দলেরই বিধায়কের মন্তব্য করা আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কোন বহিঃপ্রকাশ কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিকের এই মন্তব্য রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক সহ সব মহলেই রীতিমতো দাগ কেটেছে।