নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা/ আমবাসা, ১৪ মে।। করোনার উৎস সন্ধান করতে তিন সদস্যের এক বিশেষজ্ঞ দল ত্রিপুরায় ঢুকেই সোজা ধলাই চলে গেছে। ত্রিপুরার ধলাই রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত। করেনা-র আক্রমণ ধলাই জেলাতেই সবচেয়ে বেশি হয়েছে। তাই হয়তো ধলাই জেলা দিয়ে উৎসের খোঁজ শুরু করা উচিত হবে বলে ওই বিশেষজ্ঞ দল মনে করেছে। আজ তাঁরা প্রথমে জেলাশাসক কার্যালয়ে ধলাই জেলা শাসক ব্রাহ্মজিৎ কৌর-র সাথে বৈঠক করেছেন। এর পর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা করেন তাঁরা। সেখান থেকে সোজা আমবাসা জওহরনগরে অবস্থিত বিএসএফ-এর ১৩৮ এবং ৮৬ নম্বর ব্যাটালিয়নের মুখ্য কার্যালয়ে যান। সেখানেই জেলার সাধারণ ও পুলিশ প্রশাসনকে সাথে নিয়ে বিএসএফ-এর পদস্থ আধিকারিকদের সাথে বৈঠকে বসেছেন বিশেষজ্ঞ দলের সদস্যরা। আজ ওই বিশেষজ্ঞ দল সড়কপথে শিলং থেকে ত্রিপুরায় এসেছে। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা সরকারের অনুরোধে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে মেঘালয়ের রাজধানী শিলঙে অবস্থিত ‘নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল হেল্থ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্স’ তথা নেইগ্রিমস থেকে এই দল এসেছে। কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. জি কে মেধির নেতৃত্বে দল ত্রিপুরা সফর করছে। দলের অন্য সদস্যরা যথাক্ৰমে নেইগ্রিমস-এর অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. ভূপেন বর্মন এবং শিলঙে অবস্থিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ রিজিওনাল অফিসের আঞ্চলিক অধিকর্তা ডা. এস ডি মজুমদার। ত্রিপুরায় অধিকাংশ করোনা আক্রান্ত বিএসএফ-এর জওয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্য। এক্ষেত্রে করোনা-র উৎস খুঁজে বের করতে পারেনি ত্রিপুরা সরকার এবং বিএসএফ। তাই, ত্রিপুরা সরকার এনসিডিসি-র কাছে করোনা-র উৎস খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছিল। সে মোতাবেক স্টেট সার্ভেইলেন্স অফিসার সেন্ট্রাল সার্ভেইলেন্স ইউনিটকে করোনা আক্রান্তের বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। মূলত, গোষ্ঠী সংক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যেই ত্রিপুরা সরকার চাইছে বিশেষজ্ঞ টিম করোনা-র উৎস খুঁজে বের করুক। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ত্রিপুরা সরকারের আগ্রহে তিন সদস্যের এক টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক শিলং থেকে ওই বিশেষজ্ঞরা ত্রিপুরায় এসেছেন। সম্ভবত বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা করোনা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলি পরিদর্শন করবেন। তাছাড়া সংক্রমণের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। ত্রিপুরার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সাথেও এ-বিষয়ে আলোচনা করবেন। কারণ, করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য দফতরকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।