নতুন প্রতিনিধি, শিলচর , ২২ মার্চ।। করোনা ভাইরাস ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আহূত ‘জনতা কার্ফু’র স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া মিলেছে বরাক উপত্যকার গ্রাম-শহর সর্বত্র। ‘জনতা কার্ফু’ সফল করতে সাধারণ মানুষ নিজেকে নিজেদের ঘরে আবদ্ধ রাখতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া মিলছে শহর থেকে গ্রামগঞ্জ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে।রবিবার ভোরের দিকে শিলচর শহর এলাকায় অল্পসংখ্যক লোক প্রাতঃভ্রমণে বেরোলেও ৭-টার আগেই প্রত্যেকেই নিজ নিজ ঘরে ফিরে যান। সকাল ৭-টায় কার্ফু-র সময় শুরু হতেই রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে পড়ে। প্রতিটি মানুষ নিজেকে ঘরবন্দি রেখে এই ভাইরাসকে রুখে দিতে প্রস্তুতি নেন।’জনতা কার্ফু’তে জাতিধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকেই সকালে আড্ডায় মশগুল না হয়ে ঘরবন্দি ছিলেন। শিলচরে সকালে রাস্তার পাশে কোনও চা বা পান বিক্রেতাকে পর্যন্ত দেখা যায়নি। আইএসবিটি, দেবদূত সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডও খালি পড়েছিল। সদরঘাট, দেবদূত পয়েন্ট, প্রেমতলা, হাসপাতাল রোড, রাঙ্গিরখাড়ি পয়েন্টে টহল দিচ্ছে সিআরপিএফ। জনতা কার্ফুতে কাছাড় জেলার গ্রাম শহরের প্রতিটি স্থানের যানবাহন, দোকানপাট, বাজারহাট বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষী, চিকিৎসা কর্মী, সংবাদকর্মীদের ছাড়া বিশেষ লোকজন বেরোতে দেখা যায়নি। কোনও মানুষকে দেখলে তাকে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরোনোর কারণ জিজ্ঞেস করেছেন মোতায়িত জওয়ানরা। এমন-কি এক-দুটো মোটর বাইক রাস্তায় দেখা গেলেও সেগুলো আটকে নিরাপত্তা জওয়ানরা নিজেদের ঘরেই থাকার পরামর্শ দিতে দেখা গেছে।বরাক উপত্যকার প্রতিটি জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচল করেনি। কুম্ভিরগ্রাম বিমানবন্দর, রেলস্টেশন, আইএসবিটি ছিল জনশূন্য। জনগণকে করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িত সকলের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাতে ৫ মিনিটের জন্য হাততালি দিয়ে, কাঁসর, ঘণ্টা বাজিয়ে, শঙ্খনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের মনোবল বাড়ানোর জন্য, তাঁদের পরিষেবাকে সম্মান জানাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানেরও ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়েছে গ্রাম শহরে।বিকেল ৫ টায় নিজ নিজ ঘরে কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খনাদ এবং হাততালি দিতে দেখা গেছে অসংখ্যজনকে। এদিকে, গত শনিবার উত্তরপূর্ব রেল আজ রবিবারও তাদের সব ধরনের যাত্রীবাহী রেল পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছে।