নতুন প্রতিনিধি, উদয়পুর, ৫ মার্চ।। দুই দিন পর পরই কোন না কোন ঘটনার জন্য সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে গোমতী জেলা হাসপাতালের নাম। কখনো হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আবার কখনো দুই রোগীর পরিবারের মধ্যে ঝামেলা। এই সকল ঘটনা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না গোমতী জেলা হাসপাতালের। ঘটনার বিবরণে জানা যায়। বুধবার রাতে উদয়পুরের মির্জা থেকে বাইক নিয়ে শহরের দিকে আসছিল সুকান্ত লোধ নামে এক ব্যক্তি। বাইকের পিছনে বসা অবস্থায় ছিল পার্থ মজুমদার নামে অপর এক যুবক। বাইকটি খিলপাড়া গ্যাস গোডাউন সংলগ্ন এলাকায় আসতেই মহরম আলি নামে এক ব্যক্তিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মহরম আলি সহ দুই বাইক আরোহী গুরুতর ভাবে আহত হয়। দমকল বাহিনীর কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে গোমতী জেলা হাঁসপাতালে নিয়ে আসে। এই ঘটনার খবর পেয়ে মহরম আলির পরিবারের লোকজন সহ এলাকার লোকজন গোমতী জেলা হাঁসপাতালে ছুটে আসে। এইদিকে গোমতী জেলা হাঁসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর মহরম আলিকে জিবি হাঁসপাতালে স্থানান্তর করে দেওয়া হয়। মহরম আলিকে গোমতী জেলা হাঁসপাতালে স্থানান্তরের সাথে সাথে মহরম আলির পরিবার ও গ্রামের লোকজন হাসপাতালের অভ্যন্তরের ক্ষোভে ফেটে পরে। তারা বাইক আরোহী পার্থ মজুমদারকে হাসপাতালের অভ্যন্তরের বেধড়ক ভাবে মারধর করতে থাকে। এমনটা জানান খোদ বাইক আরোহী পার্থ মজুমদার।হাসপাতালের অভ্যন্তরের ঝামেলার কথা শুনতে পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন ওয়ার্ড মাস্টার লিটন দাস। তিনি মহরম আলির পরিবারের লোকজনদের হাত থেকে কোনক্রমে বাইক আরোহী পার্থ মজুমদারকে রক্ষা করেন। তখন মহরম আলির পরিবারের লোকজন লিটন দাসের উপর চড়াও হয়। তাকে বেধড়ক ভাবে মারধরের পাশাপাশি হাসপাতালের আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর করা হয় বলে জানায় সে।জেলা হাঁসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধ্রুব নাথের নেতৃত্বে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরবর্তী সময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন খোদ জেলা শাসক টি.কে দেবনাথ। শেষ পর্যন্ত জেলা শাসকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর বাইক চালক সুকান্ত লোধকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য জিবি হাঁসপাতালে স্থানান্তর করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময় হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে অবগত হন জেলা শাসক। এবং পুলিশকে নির্দেশ দেন হাঁসপাতালে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।বুধবার রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোমতী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গোমতী জেলা হাঁসপাতালে এই নিয়ে বহুবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। স্বাভাবিক ভাবেই দাবি উঠছে গোমতী জেলা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার। বুধবার রাতের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা শাসক পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের। এখন দেখার পুলিশ সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণে কতটা সফল হয়।