নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ মার্চ৷৷ কেন্দ্রীয় ফ্ল্যাগশিপ স্কিম মিশন ইন্দ্রধনুষ এবং প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন-ঔষধি পরিযোজনা রূপায়ণের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ আজ বুধবার রাজ্য সচিবালয়ের ১ নম্বর কনফারেন্স হল-এ আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় ফ্ল্যাগশিপ স্কিমগুলিকে রাজ্যেও যথাযথ রূপায়ণে সংশ্লিষ্টদের বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে৷ এজন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷ সভায় তিনি মিশন ইন্দ্রধনুষ প্রকল্পে প্রতিটি ব্লকে টিকাকরণের হার একশো শতাংশ অর্জন করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন-ঔষধি পরিযোজনা প্রকল্পের সুবিধা সম্প্রসারণ করতে হবে৷ তার জন্য আরও বেশি করে জন-ঔষধি কেন্দ্র খোলার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন৷ তাঁর কথায়, জন-ঔষধি কেন্দ্র নেই এমন হাসপাতালগুলিতে যেমন এই সেন্টার খুলতে হবে তেমনি রাজ্যের যে সমস্ত হাসপাতালে জন-ঔষধি কেন্দ্র রয়েছে সেখানে জেনেরিক ওষুধ যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে৷ এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরকে যা যা করা প্রয়োজন তা করতে হবে৷ প্রয়োজনে জেনেরিক মেডিসিন সরবরাহকারী সংস্থাগুলির জন্য গাইডলাইন বেঁধে দিতেও বলেন তিনি৷ পাশাপাশি তিনি জেনেরিক ওষুধের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা যাতে উদ্যোগী হন সেই বিষয়টিও দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এতে সাধারণ গরিব মানুষ যেমন উপকৃত হবেন তেমনি চিকিৎসা খরচও কম হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন৷
আলোচনায় স্বাস্থ্যসচিব ড় দেবাশিস বসু মিশন ইন্দ্রধনুষ প্রকল্প সম্পর্কে বলেন, এই প্রকল্পে শূন্য থেকে ২ বছর বয়সি শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের টিকাকরণের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে৷ এজন্য রাজ্যের ৬টি জেলা যথাক্রমে সিপাহিজলা, খোয়াই, গোমতি, উত্তর ত্রিপুরা, ঊনকোটি এবং ধলাইকে এই অভিযানের জন্য চিহিণত করা হয়েছে৷ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকেই এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে৷ সভায় প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে এই কর্মসূচির তৃতীয় রাউন্ডে শিবিরগুলিতে শূন্য থেকে ২ বছর বয়সি ১,৭৩৪ জন শিশুকে টিকাকরণ করা হয়৷ এক্ষেত্রে সফলতার হার ৯৫ শতাংশ৷ পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদের টিকাকরণের সফলতার হার ৯৬ শতাংশ৷ প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন-ঔষধি পরিযোজনা প্রকল্প সম্পর্কে স্বাস্থ্যসচিব জানান, রাজ্য, জেলা, মহকুমা হাসপাতাল এবং সিএইচসি মিলে মোট ২০টি হাসপাতালে জন-ঔষধি কেন্দ্র চালু রয়েছে৷ এই কেন্দ্রগুলি খোলার জন্য স্বাস্থ্য দফতর প্রতিটি ক্ষেত্রে জায়গার ব্যবস্থার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করেছে বলে সভায় জানানো হয়েছে৷ এদিন পর্যালোচনা সভায় মুখ্যসচিব মনোজ কুমার, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের প্রকল্প অধিকর্তা অদিতি মজুমদার, পরিকল্পনা ও সমন্বয় দফতরের বিশেষ সচিব অপূর্ব রায় সহ অন্যান্য উচ্চ পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷