একদিনে সবকিছু করে দেওয়া যাবে, এমন নয় : মুখ্যমন্ত্রী

নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জানুয়ারি।। ত্রিপুরা অন্যান্য পশ্চাদপদ শ্রেণী সমবায় উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের বার্ষিক সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর রবীন্দ্র ভবনে প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্য দিয়ে এই বার্ষিক সাধারন সভার সুচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। এইদিনের সভার উদ্ধোধনি অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন যারা শোষক শোষিতের ইতিহাস শুনাতো তারাই শোষণ করার মূল কারিগর ছিল ত্রিপুরা রাজ্যে। পরিকল্পনা করে এই ব্যবস্থা গুলি করা হয়েছিল ত্রিপুরা রাজ্যে। এগুলি ত্রিপুরার উন্নয়নের জন্য নয়। এগুলি করা হয়েছিল ত্রিপুরার উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করার জন্য এবং নিজেদের দলকে টিকিয়ে রাখার জন্য। বর্তমান সরকার দল টিকানোর সরকার নয়। একদিনে সবকিছু করে দেওয়া যাবে, এমন নয়। একটা শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর মা স্বপ্ন দেখেন ছেলে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু তা এক বা দুই বছরে হয় না। ২০ থেকে ২৫ বছর সময় লেগে যায়। তেমনি বর্তমান শিশু রুপি এই সরকারেরও কিছু সময় লাগবে। পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, তা বাস্তবায়িত করতে হবে। তারপর ফলাফল দেখতে হবে। মানুষ তাতে কতটা উপকৃত হয়েছে তা দেখতে হবে।ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ক্ষেত্র, শিক্ষা ক্ষেত্রে ঋন প্রদান এই সকল কাজ  গুলি অন্যান্য পশ্চাদপদ শ্রেণী সমবায় উন্নয়ন নিগম লিমিটেড করে থাকে। তাছাড়া ওবিসি অংশের মানুষের জন্য রাজ্য সরকারও বিভিন্ন প্রি-মেট্রিক, পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ যোজনা গুলি দিয়ে থাকে। তথ্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন ২০১৭-১৮ সালে ১৪ হাজার ৬৪৮ জন ছাত্রী ছাত্রীকে পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। এতে রাজ্য সরকারের ২১ কোটি ৫০ লক্ষ্য টাকা ব্যয় হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর সেইটা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭১১ জন ছাত্র ছাত্রী। ব্যয় হয়েছে ২৪ কোটি ৫০ লক্ষ্য টাকা। প্রি-মেট্রিক স্কলার সিপ ২০১৭-১৮ সালে ৫৮ হাজার ৮৮৬ জন ছাত্র- ছাত্রীকে প্রদান করা হয়। এতে ব্যয় হয় ১ কোটি ৮৭ লক্ষ্য ২২ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ সালে ৫৩ হাজার ১৫৮ জন ছাত্র-ছাত্রীকে প্রদান করা হয় ৫ কোটি ৩২ লক্ষ্য ৫৮ হাজার টাকা।বর্তমান সরকার যে কাজ গুলি করছে, সেই কাজ গুলি পূর্বতন সরকার করা উচিত ছিল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন পূর্বতন সরকার ২৫ টি বছর রাজ্যের ক্ষমতায় ছিল। একজন ব্যক্তির নামে ২০ টি অটোর পারমিট থাকবে, এই পদ্ধতি কোন ভাবেই গরিবদের বলা যেতে পারে না। সাধারন মানুষের জন্য সিস্টেম যদি কেউ চালু করে থাকে তবে তা করেছে নতুন সরকার। এক ব্যক্তি একটি অটোর পারমিট। এবং সেই অটো নিজেকেই চালাতে হবে। নতুন সরকার আসার পর এইটাই পরিবর্তন হয়েছে। স্বচ্ছতা এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন এখন যারা যারা ঋণ গ্রহণ করছে, তাদেরকে ঋণ পাওয়ার জন্য কাউকে কমিশন দিতে হচ্ছে না। আগে একই পরিবারে ৪ থেকে ৫ টি পারমিট থাকতো এখন আর এইগুলি নেই।ঋণ নেওয়ার সময় মনের মধ্যে ভয় থাকতে হবে, যে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তাহলেই সফলতা আসবে। অন্যথায় সফলতা আসবে না। অনেক সময় দেখা যায় ২০ জন ঋণ গ্রহণ করলে ১৫ জন সঠিক সময় ঋণ পরিশোধ করে নিয়েছে। ৫ জন ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। কারন তারা সফল হয়নি। তাই ঋণ গ্রহণের আগে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে ঋণ গ্রহণ করে ঋণের টাকা কোন কাজে লাগাবে। আর সেই কাজের বাজার রয়েছে কিনা। এই সবকিছু ভেবে কোন ব্যক্তি যদি ঋণ গ্রহণ করে তবে সেই ব্যক্তি সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।সভায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওবিসি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান তাপস মজুমদার সহ অন্যান্যরা। এইদিনের বার্ষিক সাধারন সভায় অন্যান্য পশ্চাদপদ শ্রেণী সমবায় উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের পক্ষ থেকে ওবিসি ভুক্ত ২৫ জন সুবিধাভোগীর হাতে যাত্রী বাহী অটো ও অটোর পারমিট তুলে দেওয়া হয়। সুবিধাভুগিদের হাতে যাত্রীবাহী অটোর পারমিট তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চ্যাট খুলুন
1
আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান
হেলো, 👋
natun.in আপনাকে কিভাবে সহায়তা করতে পারে?