নতুন প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ ডিসেম্বর৷৷ সময়মতো ঋণ পরিশোধ করুন৷ ঋণগ্রহীতাদের প্রতি এই আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ঋণ নিয়ে সঠিক প্রকল্পে ব্যবহার করুন৷ সোমবার লেক চৌমুহনিতে তফশিলি জাতি কল্যাণ দফতর ও ত্রিপুরা তফশিলি জাতি সমবায় উন্নয়ন নিগম লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির এবং ঋণ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এই আহ্বান জানিয়েছেন৷ উদ্বোধকের ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করার মানসিকতা থাকা একেবারেই উচিত নয়৷ এ ধরনের মানসিকতা থাকলে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না৷ তাঁর কথায়, প্রত্যেকের মধ্যে ভালো কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে৷ কারণ যাঁরা ভালো কাজ করেন মানুষ তাঁদের সব সময় স্মরণে রাখেন৷ সাথে তিনি উৎসাহ দিয়ে বলেন, কাজের প্রতি যাঁদের নিষ্ঠা রয়েছে তাঁরা অবশ্যই সাফল্য পাবেন৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, রাজ্যের তফশিলি জাতি সমবায় উন্নয়ন নিগম শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লির ন্যাশনাল কপর্োরেশন থেকে ১৩৪ কোটি ৫২ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছে৷ এর মধ্যে ১২৭ কোটি ৩৪ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা ১০ হাজার ২৩১ জন সুবিধাভোগীকে আর্থ-সামাজিক মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ঋণ প্রদান করেছে৷ সাথে তিনি বলেন, এসসি কপর্োরেশন ন্যাশনাল কপর্োরেশনের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে বার্ষিক ৩ শতাংশ হারে ঋণ নিয়ে বার্ষিক ৬ শতাংশ সরল সুদে রাজ্যের সুবিধাভোগীদের ঋণ প্রদান করে থাকে৷ এছাড়াও তফশিলি জাতি কল্যাণ দফতর ছাত্রাবাস বৃত্তি প্রদান, প্রাক-মাধ্যমিক বৃত্তি, মাধ্যমিকোত্তর বৃত্তি-সহ মোট ১৬টি প্রকল্পে তফশিলি জাতিভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তফশিলি জাতি কল্যাণ দফতর প্রাক-মাধ্যমিক বৃত্তি ১১,৩৭৭ জন, মাধ্যমিকোত্তর বৃত্তি ১,৬৯০ জন, অপরিচ্ছন্ন কাজে নিযুক্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য প্রাক-মাধ্যমিক বৃত্তি ৫৯ জন, ড় বিআর আম্বেদকর স্মৃতি মেধা পুরস্কার ২,৬১৬ জন, বিএড এবং ডিএলএড কোর্সে ৮৬ জন, প্যারামেডিক্যাল কোর্সে ২৩ জন এবং চিকিৎসার জন্য ৫৫৮ জন সুবিধাভোগীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে৷ এছাড়া তফশিলি জাতিভুক্ত যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে মোটর ড্রাইভিং, সেলাই, চামড়ার ব্যাগ তৈরি, কাগজের ব্যাগ তৈরি ইত্যাদি কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর দফতর গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ত্রিপুরায় বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিশু, স্বাস্থ্য, পানীয় জল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদিকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে৷