নতুন প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ২৫ ডিসেম্বর ৷৷ নাবালিকার শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে দুই বিজেপি নেতা কোমড় বেঁধে নেমেছেন বলে অভিযোগ৷ টাকার বিনিময়ে ও হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করার জন্য নাবালিকার মাকে চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে৷ নাবালিকার মায়ের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে৷ পক্ষান্তরে অভিযোগটি বিরোধীদের চক্রান্ত বলে বিজেপি নেতার সাফাই গেয়েছেন৷ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবার৷ ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ২৩ নভেম্বর বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের গঙ্গানগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক সুকলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে পাশের ক্লাসরুমে শ্লীলতাহানি করেন সুকলের শিক্ষক নুরুল ইসলাম৷ তারপর মেয়েটিকে ওই গুণধর শিক্ষক শাসিয়ে দেন যাতে করে মেয়েটি পরিবারের কাউকে কিছু না বলে৷ নাবালিকা সুকল ছাত্রী বাড়িতে পৌঁছে সবিস্তারে বাবা-মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে৷ তারপর ২৫ নভেম্বর সুকলে ওই গুণধর শিক্ষক আসার পর গ্রামবাসীরা শিক্ষক নুরুল ইসলামকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে ঘটনাটি সুবিচার চেয়ে বাগবাসা ধর্মনগর সড়ক অবরোধ করে বসেন৷ পাশাপাশি নির্যাতিতার মা ধর্মনগর মহিলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন৷ মামলাটির নম্বর হলো ডব্লিওডিএন/৪২/১৯, ইউএসঃ-৩৫৪/৫০৬ আইপিসি অ্যান্ড ১০ অফ পসকো অ্যাক্ট৷ নির্যাতিতা নাবালিকার মায়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গঙ্গানগর সুকলে পৌঁছে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে৷ কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট জমা হয়ে যায়৷ জামিনে বেরিয়ে আসে গুণধর শিক্ষক নুরুল ইসলাম৷ পুলিশের এই দ্রুত পদক্ষেপে একবাক্যে সবাই ঐতিহাসিক আখ্যা দেন৷ কিন্তু তারপর ঘটনাটি অন্য মোড় নেয় গত ৯ ডিসেম্বর৷ নির্যাতিতা নাবালিকার মায়ের অভিযোগ, গত ৯ ডিসেম্বর বিকেল বেলা বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি সুদীপ দেব এবং মণ্ডল সম্পাদক অকিল শুক্লবৈদ্য নির্যাতিতার মায়ের সাথে বাগবাসাস্থিত মিশনটিলা বাজারে দেখা করতে বলেন৷ নির্যাতিতার মা মিশন টিলা বাজারে মণ্ডল সভাপতি সুদীপ দেব ও মণ্ডল সম্পাদক অখিল শুক্ল বৈদ্যের সাথে দেখা করলে উনারা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এমনটা নির্যাতিতা নাবালিকার মায়ের বক্তব্য৷ নির্যাতিতার মা জানান, মণ্ডল সভাপতি সুদীপ দেব ও সম্পাদক অখিল শুক্লবৈদ্য উনার উপর চাপ সৃষ্টি করে বলেন, মামলাটি তুলে নিলে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে৷ অন্যথায় এর পরিমাণ ভুগতে হবে নাবালিকার পরিবারকে৷ শুধু তাই নয় মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হবে বলেও হুমকি দেন নির্যাতিতার মাকে, এমনটা নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ৷ নির্যাতিতার মা মণ্ডল সভাপতি ও সম্পাদকের অর্থের প্রলোভন ও হুমকির পড়ুয়া না করে গত ২৩ ডিসেম্বর ঘটনাটি সবিস্তারে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব মহোদয়ের কাছে পোস্ট অফিস মারফত চিঠি দিয়ে প্রেরণ করেন৷ বাগবাসা মণ্ডল সভাপতি ও সম্পাদকের হুমকিতে নির্যাতিতার পরিবারটি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়েছে৷ নাবালিকা মেয়েটিও ভয়ে সুকলে যেতে পারছে না৷ মা অথবা বাবাকে নিয়ে কোনভাবে পরীক্ষায় বসছে৷ কিন্তু প্রতিদিন সুকলে আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই নাবালিকার৷ গঙ্গানগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সদস্য ও এলাকাবাসী নির্যাতিতা নাবালিকা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান৷ অপরদিকে বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের মণ্ডল সভাপতি সুদীপ দেবকে গোটা বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, উনি সহ সম্পাদক অখিল শুক্ল বৈদ্যের উপর যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা বিরোধীদের চক্রান্ত৷ এখন দেখার বিষয় রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার পরও একটি অসাধু চক্র মাঠে নামার পর নির্যাতিতা নাবালিকা সুবিচার পায় কিনা সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ণ৷