নতুন প্রতিনিধি, পানিসাগর, ২১ ডিসেম্বর৷৷ ১৪ বছরের নাবালিকা মেয়েকে তুলে নিয়ে নিজের বাড়িতে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠছে জনৈক বিবাহিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগরের পশ্চিম পদ্মবিল এলাকায়৷ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ০৫ নভেম্বর ধর্মনগরের হাফলং এলাকার পেশায় গাড়ি চালক এক যুবক পদ্মবিল এলাকার জনৈক ব্যক্তির ১৪ বছর বয়সি সুকলপড়ুয়া নাবালিকা মেয়েকে প্রাইভেট টিউটটের বাড়ি যাওয়ার সময় জোর করে তুলে নিয়ে যায় তার বাড়ি৷ নিজের বাড়িতে নিয়ে নাবালিকা কন্যার কপালে সিঁদুর ও হাতে শাখা পরিয়ে বিয়ে করে৷ এ ব্যাপারে নাকি মেয়েটিরও সম্মতি ছিল৷ এর পর উভয়ের মধ্যে বার-কয়েক শারীরিক সম্পর্কও হয়৷ বিয়ের পরের দিন থেকেই বাঁধে বিপত্তি৷ কেননা, যুবকটি যে বিবাহিত এবং তার দুই কন্যাসন্তান রয়েছে তা ফাঁস হয়ে যায়৷ বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিল নববিবাহিতা মেয়েটির কাছে৷ জানা গেছে, যুবকটির প্রথমা স্ত্রী তার দুই সন্তানকে নিয়ে তাকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে গেছে৷ ঘটনাটি জানতে পেরে নাবালিকা মেয়েটি নববই ডিগ্রি বেঁকে বসে৷ শুরু হয় উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা৷পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে গত ১০ নভেম্বর মেয়েটি তার বাবাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়৷ সব শুনে বাবা তার মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন৷ এর পরের দিন ছেলেটি তার মাকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েটির বাপের বাড়িতে ছুটে আসে৷ এখেনে এসে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার দাবি তুলে৷ নববধূকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক কাকুতি-মিনতি করে৷ এছাড়া বিষয়টি নিয়ে থানা-পুলিশ না করে নিজেদের মধ্যে মিটমাট করে নেওয়ারর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ এক সপ্তাহের মধ্যে মোট দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নয় দুই পরিবার৷কিন্তু সেখানেও দেখা দেয় বিপত্তি৷ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না পাওয়ায় আরও কিছুদিন অপেক্ষা করে নিরাশ হয়ে জামাতার বিরুদ্ধে ১৮ ডিসেম্বর পানিসাগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মেয়ের বাবা৷ অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৬৬(এ), ৩৭৬(৩) এবং দ্য প্রটেকশন অব চিল্ড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেনসেস অ্যাক্ট বা পোক্সো আইনের ধারা বলে ৭১/২০১৯ নম্বরে এক মামলা রুজু করেছেন পানিসাগর থানা কর্তৃপক্ষ৷মামলার ভিত্তিতে পানিসাগর থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করে পানিসাগর থানায় নিয়ে আসে৷ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১৯ তারিখ ধর্মনগর দায়রা আদালতে সোপর্দ করা হয় যুবককে৷ শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্তকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দিয়েছে৷ এছাড়া নাবালিকা মেয়েটিকে মেডিক্যাল টেস্ট করিয়ে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়৷